ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা |সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে বেইজিং সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার অনুষ্ঠিত এই সফরকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

গত অক্টোবরে বুসান বৈঠকের পর এই প্রথম সরাসরি মুখোমুখি হলেন শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার বৈঠক শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, এই বৈঠকের দিকে পুরো বিশ্ব নজর রাখছে। কারণ বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকলে তা শুধু বেইজিং ও ওয়াশিংটনের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে এই বৈঠককে ঘিরে আশাবাদের অন্যতম কারণ হচ্ছে দুই নেতার ব্যক্তিগত কূটনৈতিক যোগাযোগ। গ্লোবাল টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মতপার্থক্য ও বাণিজ্য উত্তেজনা সত্ত্বেও শি জিনপিং ও ট্রাম্পের নেতৃত্ব দুই দেশের সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করেছে।

গত এক বছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা অন্তত সাতবার বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনার ফলে পারস্পরিক দূরত্ব কিছুটা কমেছে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বরাবরই বলে আসছেন, পৃথিবী এতটাই বড় যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেরই একসঙ্গে উন্নতি করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। তার মতে, একজনের অগ্রগতি অন্যজনের জন্য হুমকি নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই নেতা ছয়বার টেলিফোনে কথা বলেছেন। চীনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতাই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।

সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, যখনই দুই নেতা পারস্পরিক সমঝোতা ও ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তখনই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়েছে এবং জটিলতা কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল দুই দেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওই বছর চীন তাদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র উদযাপন করবে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি। ফলে সামনের বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন কৌশলগত মোড়ে পৌঁছাতে পারে।

চীনা বিশ্লেষকদের দাবি, ট্রাম্পের “মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন” নীতির সঙ্গে চীনের উন্নয়ন কৌশলের সরাসরি কোনো সংঘাত নেই। বরং দুই দেশ সহযোগিতার মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বেইজিংয়ে শি-ট্রাম্প বৈঠক ভবিষ্যতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমার মেয়ে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন

1

আরো ২০ দিনের তেলের মজুত ছাড়বে জাপান

2

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা পাই না : এ্যানি

3

টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

4

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল

5

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ন্যাটো মিত্রদের বৈঠক

6

বর্ণবাদী মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে ট্রাম্প

7

মৃত্যুদণ্ডে পুরোনো পদ্ধতি ফিরিয়ে আনছে যুক্তরাষ্ট্র

8

১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির উদ্বেগ

9

নোয়াখালী বিভাগ চাই : সংসদে হান্নান মাসউদ

10

বার কাউন্সিল রিভিউ বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

11

রাতের মধ্যে ১৭ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা

12

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন নামঞ্জুর

13

শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই: জয়সোয়

14

ভারতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে শিশুসহ নিহত ৭

15

আর্জেন্টিনাকে হারানোর পেছনে ছিল রাজনৈতিক চাপ: পাবলো কাররোজা

16

মেসিকেই সেরা মানেন ইয়ামাল

17

সালমান শাহ হত্যা রহস্য উদঘাটনে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের নির্দে

18

এইচএসসিতে নকল পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানও শাস্তির মুখে

19

ট্রানজিট বাণিজ্যে ইরানকে বড় সুবিধা দিল পাকিস্তান

20