ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১০:১২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ভাঙনের ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের পারকি উপকূল

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি উপকূল ক্রমেই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়ছে। বঙ্গোপসাগরঘেঁষা প্রায় ১০ কিলোমিটার উপকূলের মধ্যে সাত কিলোমিটার এলাকায় সুরক্ষা ব্লক থাকলেও পারকি বিচ-সংলগ্ন প্রায় তিন কিলোমিটার অঞ্চল এখনো অরক্ষিত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে এই অংশের বড় একটি এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

গত কয়েক বছরে একের পর এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে আনোয়ারা উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০২০ সালের আম্ফান থেকে শুরু করে ইয়াস, সিত্রাং, মোখা, হামুন এবং সর্বশেষ রেমাল—প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মৎস্য খাত, সড়ক, বাজার ও পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকা। অব্যাহত ভাঙনে শুধু অবকাঠামো নয়, নষ্ট হচ্ছে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবং উপকূলীয় পর্যটন ও কৃষি খাতকে সুরক্ষা দিতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রাম বিভাগ। ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রায় ৫৪৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পারকি সৈকত ছাড়াও কর্ণফুলী টানেলের সংযোগ সড়ক, নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সুরক্ষা পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ শওকত ইবনে সাহীদ জানান, আনোয়ারা উপকূলের তিন কিলোমিটার এলাকা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাটির আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় দ্রুত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন শেষে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এর আওতায় প্রায় ৩০ দশমিক ৩৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ৩ দশমিক ৪৬০ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, ২ দশমিক ৭৩০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ, পানি নিষ্কাশনের জন্য দুই ভেন্টের একটি রেগুলেটর স্থাপন, নতুন সড়ক নির্মাণ এবং খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সম্ভাব্য মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সাইক্লোন মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে, উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং লবণাক্ত পানির আগ্রাসন কমে কৃষি উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় সাপমারা খালে মাছ ধরার ট্রলার নিরাপদ আশ্রয় পাবে, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সম্প্রসারণ হবে এবং পারকি সৈকতকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গ্রিন কার্ড আবেদন নীতি বদলালো যুক্তরাষ্ট্র

1

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের আন্তর্জাতিক সাফল্য

2

‎ফাইনালে না হারলে আর্জেন্টিনার AFA এর প্রেসিডেন্ট ফেঁসে যেত

3

সন্তানদের কাছে ফিরতে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন প্রীতি জিনতা

4

চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘

5

নৌবাহিনী কলেজে বিজ্ঞান মেলা

6

নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কানাডা

7

মেসির দলে যোগ দিলেন ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

8

হামের প্রকোপে নিভে গেছে কিছু আলো : সাকিব

9

সংসদে আমাকে গালাগাল করা হয়েছে : রুমিন ফারহানা

10

মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে মোদির প্রতিশ্রুতি

11

অস্ট্রেলিয়ায় কনসার্টে মাতাবেন রুনা লায়লা

12

পুলিশ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা দেবে ইউনেস্কো

13

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে মিসাইল হামলার দাবি

14

শান্তি চুক্তির মধ্যেও লেবাননে ইসরাইলের নতুন বিমান হামলা

15

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গেই যেন নিবিড় সম্পর্ক আর্জেন্টিনার

16

বিশ্বকাপে পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জাপানি দর্শকরা

17

১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির উদ্বেগ

18

হরমুজ দেখিয়ে দিল মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা

19

ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে আইভরিকোস্ট

20