বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামাকে ৬-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। তবে দাপুটে এই জয়ের পরও দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক কাসেমিরো মনে করেন, আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম শীর্ষ ফেভারিট হিসেবে ব্রাজিলকে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তার মতে, কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার দিক থেকে সেলেসাওদের চেয়ে এগিয়ে আছে।
মারকুইনহোসের অনুপস্থিতিতে পানামার বিপক্ষে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন কাসেমিরো। ম্যাচে তিনি শুধু নেতৃত্বই দেননি, গোল ও অ্যাসিস্ট করেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লুকাস পাকেতা এবং ইগর থিয়াগোও আক্রমণভাগে উজ্জ্বল ছিলেন। এছাড়া ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন রায়ান ও দানিলো।
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের পারফরম্যান্সও ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে দলটি ৬টি জয় পেয়েছে। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে দুটি ড্র এবং তিনটিতে হার দেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে কাসেমিরোর মতে, নতুন কোচের অধীনে তুলনামূলক কম সময় কাজ করার কারণে বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল এখনও নিজেদের সেরা অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, বিশ্বকাপের ফেভারিট নির্ধারণ করা সহজ নয়। ব্রাজিল অবশ্যই শক্তিশালী দল, কিন্তু এমন কয়েকটি জাতীয় দল রয়েছে যারা দীর্ঘ সময় ধরে একই পরিকল্পনায় এগিয়েছে এবং বর্তমানে এক ধাপ এগিয়ে আছে।
অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সময় খুব বেশি হয়নি। অন্য অনেক দল তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তবুও ব্রাজিল শক্তিশালী মানসিকতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে এবং শিরোপার স্বপ্ন দেখবে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। আগামী ৬ জুন ক্লিভল্যান্ডে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে আনচেলত্তির শিষ্যরা। এরপর মূল টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে সেলেসাওরা।
উল্লেখ্য, ব্রাজিল সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ২০০২ সালে। এরপর টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ আসর পার হলেও আর শিরোপা ছোঁয়া হয়নি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল এই দলটির। এবার সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ব্রাজিল।
মন্তব্য করুন