নেইমার জুনিয়রের পর এবার চোখের জলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে বিদায় জানালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। আর এই পরাজয়ের সঙ্গেই পর্তুগিজ যুবরাজের বিশ্বজয়ের শেষ স্বপ্নটি চিরতরে ভেঙে গেল। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরপরই মাঠে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা। ড্রেসিংরুমের টানেলে যাওয়ার পথে তাঁর অশ্রুসিক্ত মুখ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক বেদনাবিধুর মুহূর্তের জন্ম দেয়।
ম্যাচ শেষে স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচটিই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ বলে নিশ্চিত করেছেন রোনালদো। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসরের ঘোষণা না দিয়ে আপাতত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছেন সিআর সেভেন। তিনি বলেন, “আমি চিন্তা করার আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাব। কোনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেব না, জীবন এগিয়ে যাবে।”
২০০৬ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের ফুটবলকে একা হাতে টেনেছেন রোনালদো। ক্যারিয়ারে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলে ২৭ ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন তিনি। এতদিন নকআউট পর্বে গোল না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, চলতি আসরে সেটিও ঘুচেছে তাঁর। ফলে বিশ্বকাপ ট্রফি অধরা থাকলেও নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই পর্তুগিজ অধিনায়কের।
কান্না সামলে নিয়ে রোনালদো নিজের অর্জন ও তৃপ্তির কথা জানিয়ে বলেন, “আমি আমার সেরাটা দিয়েছি এবং পর্তুগালের জন্য তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্তিয়ানোর আগে পর্তুগালের কোনো (বড়) শিরোপা ছিল না, তাই আমি খুশি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফিটি, যা আমার কাছে বিশ্বকাপের সমান গুরুত্বের। তাই আবারও বলব, একদম পরিষ্কার বিবেক নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আগামীকাল একটি নতুন দিন হবে এবং জীবন তার নিজের নিয়মে চলবে।”
ট্রফি দিয়ে হয়তো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব পুরোপুরি মাপা যাবে না, তবে ইউরো ও নেশনস লিগ জয়ী এই মহানায়কের বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় কোটি ভক্তকে আজীবনের এক শূন্যতা উপহার দিল।