বিয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সামাজিক বন্ধন, যা শুধু নারী-পুরুষের বৈধ সম্পর্কই স্থাপন করে না, বরং পরিবার গঠন, নৈতিকতা রক্ষা এবং সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য ইসলাম সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের দ্রুত বিয়ে করার উৎসাহ দিয়েছে।
হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বিয়েকে দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্য একটি হাদিসে যুবকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, যারা সামর্থ্যবান তাদের বিয়ে করা উচিত, কারণ এটি দৃষ্টি ও চরিত্র সংযত রাখতে সহায়তা করে।
তবে নিকাহর সময় শুধু ‘কবুল’ শব্দই কি বাধ্যতামূলক—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শুধু একটি নির্দিষ্ট শব্দ নয়, বরং প্রস্তাব (ইজাব) ও গ্রহণ (কবুল)-এর স্পষ্ট প্রকাশই মূল শর্ত।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নিকাহ বৈধ হতে হলে প্রস্তাব ও গ্রহণ উভয়ই থাকতে হবে। তবে গ্রহণ প্রকাশের জন্য শুধু ‘কবুল’ শব্দ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। এমন যেকোনো স্পষ্ট শব্দ বা বাক্য, যা বিয়ের সম্মতি বোঝায়, তা নিকাহ সম্পন্ন করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ফিকহ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ‘ক্ববিলতু’ (আমি গ্রহণ করলাম), ‘রদ্বিতু’ (আমি রাজি হলাম), ‘তাজাওয়াজতুহা’ (আমি তাকে বিবাহ করলাম), ‘আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু’ (আমি নিজেকে তার সঙ্গে বিবাহ দিলাম) কিংবা ‘আজাযতুহু’ (আমি অনুমোদন করলাম)—এসব শব্দও পরিস্থিতিভেদে গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করে এবং নিকাহ সম্পন্ন করতে সহায়ক হতে পারে।
তবে শুধু শব্দ উচ্চারণই যথেষ্ট নয়। নিকাহ বৈধ হওয়ার জন্য উভয় পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি, প্রস্তাব ও গ্রহণের স্পষ্টতা এবং শরিয়ত নির্ধারিত সাক্ষীদের উপস্থিতি অপরিহার্য।
ইসলামি আইনবিদদের মতে, নিকাহর মূল ভিত্তি হলো দুই পক্ষের সুস্পষ্ট সম্মতি। তাই প্রচলিত ‘কবুল’ শব্দের পাশাপাশি এর অর্থ বহনকারী অন্যান্য শব্দ ব্যবহার করেও শরিয়তসম্মতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন