আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবসম্মত ও যাচাইকৃত হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে বক্তব্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ নিয়ে আলোচনার সময় এ মন্তব্য করেন স্পিকার। বিষয়টি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, যিনি মন্ত্রীর পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ১ মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে আরও এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো সেখানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি জানতে চান, ঠিক কবে নাগাদ কারখানাটি গ্যাস সরবরাহ পাবে।
জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী দেশে গ্যাসের সীমিত মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খনন কার্যক্রম না হওয়ায় বর্তমানে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকার নতুন করে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে শিল্পকারখানাগুলোতেও সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় স্পিকার মন্ত্রীর আগের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, সংসদে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প, ড্রিলিং কার্যক্রম, সরবরাহ পরিস্থিতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় ভালোভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্পিকার আরও বলেন, জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তাই সংসদীয় আলোচনায় কোনো সময়সীমা বা অঙ্গীকার ঘোষণার আগে বাস্তবতা যাচাই করে বক্তব্য দেওয়া উচিত।
সংসদে এ আলোচনা গ্যাস সংকট, শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আশুগঞ্জ সার কারখানার গ্যাস সংযোগ ইস্যুতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজর রয়েছে।
মন্তব্য করুন