মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ‘আত্মরক্ষামূলক সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার কেন্দ্র এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করা হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার এই মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী দুটি তেলবাহী জাহাজেও তারা হামলা চালিয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও প্রণালি ব্যবহার করে চলাচল করছে।
মার্কিন অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প আরও একবার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আগের দিনের হামলার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian বলেছেন, যেকোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ় অবস্থান নেবে। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে তুলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। যদিও সেই সমঝোতা সীমিত সময়ের জন্য ছিল, পরবর্তীতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ঘটলেও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার জেরে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
মন্তব্য করুন