রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
গত বুধবার ঈদের আগের দিন সকালে হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিষয়টি তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এ পরিস্থিতিকেই নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেয় এবং জানতে চায়, কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না।
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছিল, তবে তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার চূড়ান্তভাবে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এই ঘটনার পর বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটের মান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন