ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অর্থনীতির সব সূচকই চাপে: মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, রিজার্ভে টান

প্রতীকী ছবি

দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র এখন গভীর চাপে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সংসদে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, রিজার্ভে চাপ, টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে ধীরগতিসহ অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি জানান, গত ১৫ বছরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নানা দুর্বলতা ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে প্রবৃদ্ধি কমেছে, আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে এক সময় তা ছিল তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত। একই সময়ে টাকার মানও ডলারের বিপরীতে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত করেছে।

তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে বাস্তবে ৩০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছে। অনেক ব্যাংক কার্যত দুর্বল অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে এবং মূলধন পর্যাপ্ততা নেমে এসেছে উদ্বেগজনক পর্যায়ে। এতে পুরো আর্থিক খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ মন্থর হয়ে পড়েছে এবং শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। ফলে “কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি” বা জবলেস গ্রোথের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা অর্থনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মন্ত্রী বলেন, আয়ের বৈষম্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় ধনী-গরিব আয়ের ব্যবধান যেখানে তুলনামূলক কম ছিল, তা এখন বহুগুণ বেড়ে একটি বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে।

অর্থনীতির এসব চ্যালেঞ্জকে “গভীর ও বহুমাত্রিক” উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন, কাঠামোগত সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার মূল্যস্ফীতি ৫–৬ শতাংশে নামিয়ে আনা, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ ও ব্যাংকিং খাত সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আসামে অবতরণের সময় বিমান বাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত

1

বিশ্বকাপের ফাইনাল কবে-কোথায়-কখন, জেনে নিন

2

ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড, দুই নাবিক নিখোঁজ

3

ঝাঁকড়া লাম্বা চুলে বাবাকে চিনে অটিস্টিক ছেলে, তাই চুল কাটেন

4

নকআউট পর্বের আগে বিশাল সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

5

ব্রাজিল দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ: নেইমার

6

পৃথিবীর দিন ক্রমেই বড় হচ্ছে

7

হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল

8

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের নতুন কৌশল

9

বিশ্বকাপের ‘ফ্লপ’ একাদশে রয়েছেন রোনালদো

10

সাত দিনের সফরে জাপানে পৌঁছেছেন জামায়াত আমির

11

জাপানের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল

12

নুয়েনের লড়াই এখনো থামেনি

13

ভালোবাসার নামে সব কিছু মেনে নেওয়া কি ঠিক?

14

ব্রাজিল ম্যাচের জন্য টাকা খরচ করতে চায় না সরকার, বললেন ক্রীড়

15

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ফুয়াদ

16

হরমুজে ইরানি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

17

ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তার বদলি

18

দুপুরে ডাকসুর প্যানেল ঘোষণা করবে ছাত্রদল

19

বিএনপির মনোনয়ন পেলেন আওয়ামী লীগ নেত্রীর মেয়ে

20