বান্দরবানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে গত পাঁচ মাসে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শৈক্যসিং মারমাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার শৈক্যসিং মারমা মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা মংশৈপ্রু মারমার ছেলে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এক মারমা নারী বান্দরবান সদর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই নারী প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বান্দরবান শহরে বসবাস করছেন। অভিযুক্ত শৈক্যসিং মারমা তাঁর দূর সম্পর্কের দুলাভাই। বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বান্দরবান শিশু পার্কের পাশে নিজের পরিচালিত সাইনি রিসোর্টে নিয়ে গত পাঁচ মাসে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন ওই নারীকে রিসোর্টে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ধর্ষণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দুপুরের খাবার খান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী নারী থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় দলের জেলা নেতার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়ে এনসিপির বান্দরবান জেলা আহ্বায়ক মংসাপ্রু চৌধুরী বলেন, জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে তাঁরা অত্যন্ত বিব্রত। দলের গঠনতন্ত্র ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বান্দরবান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সদর উপজেলার মধ্যমপাড়ায় তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন