প্রকাশ :
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম |অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দুবাই থেকে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ থেকে ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম ওজনের ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে । উদ্ধার করা সোনার বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা।
শনিবার (৫ আগস্ট) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানের সহকারী কারিগরি সহকারী মো. সোয়েব গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, ঢাকা জানতে পারে, দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে করে সোনা পাচার করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরপরই কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ দলের সদস্যরা উড়োজাহাজে বিশেষ তল্লাশি চালানোর জন্য সেখানে যান।
উড়োজাহাজটি পরিষ্কার করার জন্য বাংলাদেশ বিমানের যান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের একটি দল ভেতরে কাজ করছিল। তারা উড়োজাহাজ থেকে নিচে নামার সময় নিরাপত্তাকর্মী নুর ইসলামের সহযোগিতায় তাদের তল্লাশি করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ বিমানের সহকারী কারিগরি সহকারী মো. সোয়েব গাজীর পরনে থাকা বেল্টের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো কয়েকটি বস্তু দেখতে পান তল্লাশিকারীরা। পরে সেগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হাউসে নেওয়া হয়।
সেখানে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা বস্তুগুলোর তালিকা তৈরি করা হয়। এ সময় কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো অবস্থায় মোট ১২০টি সোনার বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১১৬ গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উদ্ধার করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি নির্ধারিত শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে সোনার বারগুলো দেশে আনা হয়েছিল। পরে সেগুলো বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
অভিযানের সময় বিমানবন্দর নিরাপত্তা বিভাগ, কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কাস্টমস হাউস, ঢাকা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় সোনা পাচারের চেষ্টা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আটক সোনার বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের কাস্টমসের মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্ত করা পণ্য নিষ্পত্তির স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব সোনার বার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং কীভাবে সোনার বারগুলো উড়োজাহাজে আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের সঙ্গে আজই চুক্তির আশা যুক্তরাষ্ট্