রাজনৈতিক লড়াইয়ের অধ্যায় পেছনে ফেলে এখন মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেছেন, দেশে যেন আর কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়। শান্তি, সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে সবাই যেন সম্মানের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে পারেন, সেটিই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাঁখারিপাড়ায় ত্রিনয়নী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার শুভসূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের যেমন নৈতিক দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিরোধী দল কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এখন কেন লংমার্চ বা রোডমার্চের মতো কর্মসূচির প্রয়োজন হচ্ছে?
এ্যানির বক্তব্যে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সহনশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে গিয়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।
লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক ও পৌর মহাশ্মশানঘাট সংসদের সভাপতি সম্রাট খীসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ।
এ ছাড়া ত্রিনয়নী পূজা উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মানিক সাহা, সভাপতি বিনয় ভূষণ মজুমদারসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়।
মন্তব্য করুন