বাংলাদেশে বর্তমানে বৈধভাবে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ। দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির মাধ্যমে এসব সিম ব্যবহারকারীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, টেলিযোগাযোগ খাতের পাশাপাশি ডাক বিভাগের সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ডাক বিভাগের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস বা পোস্ট পিকআপ পয়েন্ট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে।
ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের প্রসারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন এবং গ্রাহকের কাছে বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডাক সেবার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ভূমি দলিল হোম ডেলিভারি, পাসপোর্ট বাল্ক ডেলিভারি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হোম ডেলিভারি সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া ই-কমার্স পণ্যের জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারি (সিওডি) সেবা চালুর বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সংক্রান্ত ভিডিও মামলা ও নোটিশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সুবিধাও চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডাক বিভাগের মাধ্যমে স্বল্প খরচে চিঠি ও পার্সেল ডেলিভারি, ইএমএস সেবা এবং বিদেশে পার্সেল পাঠানোর সুবিধা ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌসুমি ফল দ্রুত ও কম খরচে পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবাকে আরও দ্রুত, আধুনিক ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী।
মন্তব্য করুন