পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি বহুদিন মনে রাখবেন ফুটবলের এই অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চকে। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মনে হতে পারে, এমন রুদ্ধশ্বাস, নাটকীয় দ্বিতীয়ার্ধ শেষ কবে দেখেছিল বিশ্ব ফুটবল?
খেলার প্রথমার্ধটা যদি হয় শান্ত নদীর মতো, তবে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল উত্তাল সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস।
ভাঙা-গড়ার এই খেলায় নাটকের শুরুটা হয় ম্যাচের ৫৩ মিনিটে। ইভান পেরিসিচের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় ক্রোয়েশিয়া। পিছিয়ে পড়ে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে পর্তুগাল। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর এক নান্দনিক ফিনিশিংয়ে উল্লাসে মেতেছিল পর্তুগিজ শিবির, কিন্তু ভাগ্য দেবী তখনো মুচকি হাসছিলেন।অফসাইডের খাঁড়ায় কাটা পড়ে সেই গোল।তবে সিআরসেভেনকে কি আর বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়? ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে পর্তুগালকে সমতায় ফেরান এই মহাতারকা। এরপর নাটকের চিত্রনাট্য বদলায় দ্রুত। এবার ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।
একটু পরই এক বুক হতাশা নিয়ে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোকে, ডাগআউটে বসে তখনো হয়তো ভাবছিলেন ম্যাচের ভাগ্যে কী আছে।
ম্যাচের বয়স যখন ৯৪ মিনিট, তখন পর্তুগাল শিবিরে আনন্দের জোয়ার ভাসিয়ে দেন বদলি নামা গনসালো রামোস। বল জালে জড়িয়ে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন ২-১ ব্যবধানে। গ্যালারিতে তখন পর্তুগিজদের উৎসব, সবাই ধরেই নিয়েছিল ম্যাচের গল্প ওখানেই শেষ। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন আরও বড় কোনো ক্লাইম্যাক্স জমিয়ে রেখেছিলেন শেষ মুহূর্তের জন্য!
ঘড়ির কাঁটা তখন ৯০+১৩ মিনিট ছুঁয়েছে।কিছুক্ষণ আগের হতাশ রোনালদোর মুখে তখন চওড়া হাসি, আর অন্যপ্রান্তে মাঠের ওপর বিষাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন লুকা মদরিচ। এই জয়েই শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল পর্তুগাল। আর মদরিচরা ফিরে যাচ্ছেন বাড়ি।
| আজকের তারিখঃ
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬