ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১১:২৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরে ইরানের নতুন অস্ত্র হুমকি

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি ইরানের হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর। প্রস্তাবটিতে মূলত Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা ছিল। তবে ওয়াশিংটনের সরাসরি ‘না’ বলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের নৌবাহিনী নতুন এক ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম Press TV-তে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার Shahram Irani দাবি করেন, এমন একটি অস্ত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে যা শত্রুপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, ইরান খুব শিগগিরই এমন সক্ষমতা অর্জন করবে, যা প্রতিপক্ষের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত ভয়’ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা কৌশলকে ব্যর্থ ও হাস্যকর বলে উল্লেখ করেন।

কমান্ডার ইরানি দাবি করেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি USS Abraham Lincoln-এর ওপর একাধিক সফল ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এর বিমান অভিযান কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ইতোমধ্যে শতাধিক পাল্টা হামলা পরিচালনা করেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে আঘাত হেনেছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে ইরান দাবি করেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন শর্তসাপেক্ষ ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে এবং শত্রুভাবাপন্ন জাহাজগুলো সেখানে প্রবেশ করতে পারছে না। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ইরানের পাল্টা কঠোর অবস্থান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের প্রস্তাব ছিল সময়ক্ষেপণের কৌশল। তার মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখা ইরানকে গোপনে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ দিতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

ট্রাম্প আরও জানান, সামরিক হামলার চেয়ে অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ বেশি কার্যকর হবে এবং এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রোধ করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী বার্তায় জটিল হচ্ছে আলোচনা: আরাগচি

1

হামে ৪০% শিশুর মৃত্যু হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মধ্যেই

2

বিচার দূরে, দায় খোঁজাই শুরু হয়নি

3

পারস্য উপসাগরে আটকা ২০ হাজার নাবিক

4

জেনে নিন কত দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে আজ

5

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহ

6

‘কবুল’ ছাড়াও যেসব শব্দে ইসলামে বিয়ে সম্পন্ন হতে পারে

7

মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়তে স্পেসএক্সের সঙ্গে আলোচনায় গুগল

8

পারিবারিক গল্প নিয়ে আসছে ঈদের নাটক ওয়ারিশ

9

সারা দেশে কালবৈশাখীর আশঙ্কা

10

আজ থেকে সুন্দরবন প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

11

পারভেজ হত্যা মামলা: মুন্না ও কামরুলের ২ দিনের রিমান্ড

12

আবারও পোশাক নিয়ে প্রশ্নের মুখে জেলেনস্কি, প্রতিক্রিয়ায় যা বল

13

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সমালোচনায় চীন ও রাশিয়া

14

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন

15

ইডেন কলেজ-ঢাকা মেডিকেলসহ বিলুপ্ত হলো ছাত্রদলের যেসব কমিটি

16

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়ল

17

অফসাইড বিতর্ক কমাতে নতুন প্রযুক্তির যুগে ফিফা

18

সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী

19

ইরানে মার্কিন হামলার প্রভাবে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

20