ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

ইসহাক দার ও আব্বাস আরাগচি |সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

রোববার (৩ মে) গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ফোনালাপে আরাগচি, সংকট নিরসনে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা ও মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইসলামাবাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল তেহরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা শান্তি উদ্যোগ এবং তার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে, যা বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে।

ইসহাক দার আলোচনায় জোর দিয়ে বলেন, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র কার্যকর পথ হলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান। তার মতে, সামরিক সংঘাত নয়, বরং আলোচনার টেবিলই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হতে পারে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতার পেছনে রয়েছে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট। এরপর কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও, আরাগচির নতুন প্রস্তাব পরিস্থিতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রস্তাবিত ১৪ দফা পরিকল্পনায় এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরান ও লেবানন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান।

এই পরিকল্পনা তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ সরাতে হবে এবং এর বিনিময়ে সমুদ্রের মাইন অপসারণ করবে তেহরান। দ্বিতীয় ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার প্রস্তাব থাকলেও ইরান তাদের পরমাণু অবকাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হামলা বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ইরানের আটকে থাকা অর্থ ধাপে ধাপে মুক্ত করতে হবে।

সবশেষ ধাপে আরব দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ জোরদার করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থার চেয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তেহরান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমে আসতে পারে এবং নতুন কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘উড়িয়ে দেব পুরো ইরান’ : ট্রাম্প

1

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

2

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

3

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

4

বিসিবির সভাপতি হয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তামিম

5

চীনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সন্তুষ্ট ট্রাম্প

6

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইউক্রেনে রুশ হামলা

7

মার্কিন হঠকারিতা বন্ধ না হলে কূটনীতি এগোবে না: আরাগচি

8

লাখ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

9

জাতীয় সংসদে ১২টি বিল পাস

10

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ১৪ বছর

11

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

12

আমি মারা গেলে আমার লাশ নড়াইলে নিও না : মাশরাফি

13

ইবির বাসে মারধরকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর

14

রক্তচাপ বৃদ্ধিতে কফির ভূমিকা কতটা?

15

বিশ্বকাপে সৌদি সমর্থকদের জন্য বড় উপহার

16

সোনালি মুরগির দাম হু হু করে বাড়ছে কেন?

17

শিক্ষানুরাগী সৈয়দা রাহেলা বেগমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

18

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে কোনো চাপ পড়বে না

19

এফএ কাপের শেষ চারে কার প্রতিপক্ষ কে

20