প্রাক্তনের স্মৃতি মন থেকে অস্পষ্ট করতে মানুষের ঠিক কতদিন সময় লাগে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা যা তথ্য দিয়েছেন, তা শুনলে চমকে উঠতে হয়।
ভালোবাসায় ছেদ পড়েছে! ভেঙেছে সম্পর্ক! মনের ফটোফ্রেম থেকে হয়তো তার ছবি সরেছে, ফোন নম্বর ডিলিট হয়েছে, ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকেও সে বাদ পড়েছে। মন বলছে ‘ব্রেক-আপ’ হয়ে গেছে, কিন্তু একটা সময় যে আপনার পুরোটা হৃদয় জুড়ে ছিল, তাকে কি হঠাৎ করে একদিনে সম্পূর্ণ ভুলে যাওয়া সম্ভব? মনস্তত্ত্ব ও বিজ্ঞান বলছে, একেবারেই নয়।
খ্যাতনামা অ্যানথ্রোপোলজিস্ট হেলেন ফিশারের নেতৃত্বে ২০০৫ সালে একটি এফএমআরআই গবেষণা করা হয়েছিল। সেখানে দেখা যায়, প্রেম আসলে মানুষের মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ বা পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতিকে দারুণভাবে সক্রিয় করে।
প্রেমের সম্পর্কে থাকলে মস্তিষ্কে ডোপামিন, অক্সিটোসিন এবং নরএপিনেফ্রিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটারের এই ককটেল মানুষের মধ্যে এক ধরণের তীব্র আসক্তি, আনন্দ ও প্রেরণার অনুভূতি তৈরি করে।
ঠিক এই কারণেই যখন কোনো সম্পর্ক ভেঙে যায়, তখন এই ইমোশনাল হরমোন ও অনুভূতিগুলোর তীব্র অভাব ঘটে। ফলে মানুষের মস্তিষ্কে এক ধরণের আসক্তি মুক্তির কষ্ট তৈরি হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, একজন মদ্যপায়ী মানুষ যদি আচমকা মদ্যপান ছেড়ে দেন, তবে তার শরীরে ও মনে যেমন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমস্যার সৃষ্টি হয়, ব্রেক-আপের পর মানুষের মনের অবস্থাও ঠিক তেমনই হয়।
তাই ব্রেক-আপের পর যদি আপনি বছরের পর বছর আপনার প্রাক্তনকে ভুলতে না পারেন, তবে বুঝে নিন এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি মানসিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া।
তাহলে প্রাক্তনের স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যেতে ঠিক কতদিন লাগে? ‘সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্স’-এর একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সমীক্ষা বলছে, প্রাক্তনের প্রতি মনের ভেতরের সমস্ত আবেগ অনুভূতি মাত্র ৫০ শতাংশ মুছে ফেলতেই মানুষের কেটে যায় দীর্ঘ চার বছর! আর প্রাক্তনকে মন থেকে পুরোপুরি ভুলতে সময় লাগে প্রায় আট বছর।
বিজ্ঞানীদের মতে, সম্পর্ক যত গভীর হবে এবং সম্পর্কের মেয়াদ যত বেশি দিনের হবে, প্রাক্তনকে ভুলতে মানুষের তত বেশি সময় লাগবে। তবে সমীক্ষা আশ্বস্ত করছে যে, মোটামুটি আট বছর পার হওয়ার পর থেকে প্রাক্তনের প্রতি মনের অবচেতন টান বা মোহ অনেকটাই কমে আসে।
তাই বিচ্ছেদের পর যদি নিজেকে সামলাতে কষ্ট হয়, তবে নিজেকে সময় দিন। কারণ বিজ্ঞানই প্রমাণ করেছে, মন থেকে কাউকে মুছে ফেলা কোনো জাদু নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া।
সূত্র: নিউজ১৮