অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাওয়া এক মায়ের ৩৮ বছরের সংগ্রাম! ফিরলেন স্বামী, মিলেনি ঠাঁই

ছবি: সংগৃহীত

১৯৮৮ সালে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান জবেদ আলি জবেদ আলি। বাড়িতে রেখে যান স্ত্রী রুশিয়া খাতুন ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে। এরপর থেকে ৩৮ বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। স্বজনেরা দীর্ঘ দিন খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ধরে নেন হয়ত মারা গেছেন জবেদ আলি। পরে তারা খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে দেন।

হঠাৎ সম্প্রতি নিজ বাড়িতে ফেরেন জবেদ আলি। যুবক বয়সে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া জবেদ আলি এখন বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। তাকে পেয়ে অন্য স্বজনেরা খুশি হলেও স্বাভাভিকভাবে নিতে পারছেন না স্ত্রী রুশিয়া খাতুন। মান ভাঙেনি তার। অভিমানে বন্ধ করে দিয়েছেন জবেদ আলির ঘরের ফেরার পথও। দিশা না পেয়ে জবেদ আলি অবস্থান নেন তার ভাইয়ের ঘরে।

ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী বাজারের ক্যম্প পাড়া এলাকার।

১৯৮৮ সালে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যান জবেদ আলি। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে জীবন কাটিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রুশিয়া খাতুনের অভিযোগ, জবেদ আলির আরেকটি সংসার ছিল। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে কার্যত অসহায় অবস্থায় ফেলে যান। এ কারণে তিনি একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানে আর্থিক সংকট দেখা দিলে শুরু হয় কঠিন সংগ্রাম।

আরেকটি সংসারের কথা অবশ্য স্বীকার করেছেন জবেদ আলি ।

রুশিয়া খাতুন বলেন, ‘ওই সময় তাকে সব জায়গায় খুঁজেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুকের সন্তানকে নিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি। মানুষের বাড়িতে এমন কোনো কাজ নেই, যা করিনি। সন্তানকে বড় করতে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছি।’ 

তিনি জানান, পরে ছেলে বড় হয়ে কৃষিশ্রমিকের কাজ শুরু করে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেয়। বর্তমানে জাহাঙ্গীর কুয়েতপ্রবাসী। তার আয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

স্বামীকে মেনে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রুশিয়া খাতুন বলেন, ‘তার ফিরে আসা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। ৩৮ বছর সন্তান নিয়ে অথৈ সাগরে ভেসেছি। তখন কি একবারও তার মনে হয়েছে, ঘরে থাকা নিষ্পাপ শিশুটি কী খাচ্ছে, কীভাবে বেঁচে আছে? যে সময়ে একজন স্ত্রীর জন্য স্বামীই ছিল বেঁচে থাকার অবলম্বন, সেই সময় তাকে পাশে পাইনি। 

এখন সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে, তাই কেন সে এসেছে? ছেলে বিদেশ থেকে ফিরে এলে তার মতামত অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জবেদ আলির ভাই ও ভাতিজারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার কারণে প্রায় তিন বছর আগে তারা ধরে নিয়েছিলেন, জবেদ আলি আর বেঁচে নেই। 

পরে তার খোঁজাখুঁজি বন্ধ করে দেন। তবে তারা আশা করছেন, পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে জবেদ আলির স্ত্রী ও ছেলে তাকে মেনে নেবেন। 

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও অভিমান একসময় কেটে যাবে এবং পরিবারটি আবার একসঙ্গে বসবাস করতে পারবে।

জবেদ আলি জানান, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুন্ডুরিয়া গ্রামে তিনি আরেকটি সংসার গড়েছিলেন। সেখানে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে ওই স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘পরিবার ও স্বজনরা যদি আমাকে মেনে নেয়, তাহলে মেয়েকেও এখানে নিয়ে আসব।’ 

কী কারণে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন, জানতে চাইলে জবেদ আলি তা সাংসারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি নাকচ করল ইরান

1

তৃণমূলের শেষ, নাকি বিজেপির শুরু? জানা যাবে আজ

2

নেত্রকোনায় জামায়াতের এমপির গাড়ি ভাঙচুর

3

বিশ্বকাপে মেসির সামনে একাধিক রেকর্ডের হাতছানি

4

ইরানকে নতুন লিখিত প্রস্তাব পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

5

বোমা তৈরির মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

6

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

7

দুই দিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন পীর

8

অসম্পন্ন কাজেই কোটি টাকার বিল

9

আজ বিশ্ব মা দিবস

10

২০৯ রান দূরে মিরাজ

11

অফসাইড বিতর্ক কমাতে নতুন প্রযুক্তির যুগে ফিফা

12

মুখে নয়, মাঠেই হবে লড়াই

13

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

14

ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু, ইরান যুদ্ধ ঘিরে সম্পর্কে ট

15

ভোরে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

16

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক মেরে খাওয়ার ঘটনা শুনে অবাক তা

17

১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু : ধর্মমন্ত্রী

18

মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন অর্জন পাকিস্তানের

19

পারিবারিক গল্প নিয়ে আসছে ঈদের নাটক ওয়ারিশ

20