ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঈদুল আজহা: কোরবানির ঈদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব

প্রতীকী ছবি

আমাদের দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ নামে পরিচিত। এটি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের স্মৃতি বহন করে।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোরবানি হচ্ছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত। হজরত জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) বর্ণনা করেন, একবার তিনি জিজ্ঞেস করলে রাসুল (সা.) বলেন, এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত (আবু দাউদ)।

পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে আল্লাহর নির্দেশ পেয়ে তাঁর প্রিয় পুত্রকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নেন। পুত্র ইসমাইল (আ.)ও আল্লাহর নির্দেশে ধৈর্য ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। পরে আল্লাহর ইচ্ছায় ইসমাইল (আ.) রক্ষা পান এবং তাঁর পরিবর্তে একটি পশু কোরবানি করা হয় (সুরা সাফফাত: ১০২-১০৫)।

হাদিসে আরও এসেছে, রাসুল (সা.) কোরবানির সময় তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা.)-কে উপস্থিত থাকতে বলেন এবং জানান, কোরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুনাহ মাফ হয়ে যায় (মুসনাদে বাজ্জার, আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব)।

অন্য একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যার কোরবানির সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন ঈদগাহে না আসে (মুস্তাদরাকে হাকেম)।

কোরবানির গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল

ফিকহি বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক মুসলমানের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।

কোরবানির নিসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয়, বরং কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলোতে থাকলেই ওয়াজিব হয়ে যায়। নাবালেগদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। গরিব ব্যক্তি কোরবানি না দিলেও তার ওপর বাধ্যবাধকতা নেই, তবে কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু কিনলে তা কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

কোরবানি মোট তিন দিন করা যায়—১০, ১১ ও ১২ জিলহজ। তবে প্রথম দিন কোরবানি করা উত্তম।

উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। উট কমপক্ষে পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ দুই বছর এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা অন্তত এক বছর বয়সী হতে হবে। তবে ভেড়া বা দুম্বা ছয় মাসের হলেও যদি স্বাস্থ্যবান হয়, তবে তা কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য।

একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা একজনই কোরবানি দিতে পারেন। অন্যদিকে উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্পিকার হিসেবে রেকর্ড ভোট পেয়ে আবারো নির্বাচিত কালিবাফ

1

ঈদযাত্রায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস

2

দুই বছর পর শান্তর সেঞ্চুরি

3

তৃতীয় স্তরে নামল হামজার ক্লাব

4

ইরান ম্যাচে ছিটকে গেছেন বেলজিয়ামের ডোকু

5

আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসরের ভাগ্য বদলেছেন যমজ দুই ভাই

6

পানামাকে হারিয়ে আশা বাঁচাল ক্রোয়েশিয়া

7

১৪ দফা প্রস্তাবে মার্কিন জবাব পর্যালোচনায় ইরান

8

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফাকেও হারাল বেলজিয়াম

9

জ্বালানি আধিপত্যের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে তোপে রাশিয়া

10

ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: গভর্নর

11

সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নেইমার বিশ্বকাপ জেতাবে : রোনালদো

12

এক গাড়িতে ট্রাম্প ও পুতিন, বিরল দৃশ্য

13

ঢাবিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব পাল

14

শেরপুর-৩ আসনে তিন গুণ বেশি ভোটে বিএনপির জয়

15

আর্জেন্টিনাবিরোধী বক্তব্য দিলেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভিসা হবে

16

সারা দেশে হামের সংক্রমণ ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

17

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

18

শরনার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মহাকাব্য : লুকা মদরিচের অবিস

19

সাংবাদিকের প্রশ্নে কুপোকাত বাবর আজম

20