বাংলা গানের কিংবদন্তি শিল্পী ও সুরকার লাকী আখান্দের ৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। এই বিশেষ দিনে লাকী আখান্দের কালজয়ী গান ‘এই নীল মণিহার’ নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশ করেছে ব্যান্ড দলছুট। আর সেই উপলক্ষেই সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন স্মৃতিচারণ ভাগ করে নেন বাপ্পা।
স্মৃতিচারণে তিনি ফিরে যান ২০০০ সালের এক সময়ে, যখন দলছুটের জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘হৃদয়পুর’-এর কাজ চলছিল। ‘গাছ’ গানটির সংগীতায়োজন শেষ করার পর তার মনে হয়, গানটির আবেগকে আরও গভীর করতে অ্যাকর্ডিয়ানের সুর প্রয়োজন। কিন্তু সেই সময় যন্ত্রটি সহজলভ্য ছিল না, ফলে তিনি পড়ে যান দুশ্চিন্তায়।
খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, লাকী আখান্দের কাছে একটি অ্যাকর্ডিয়ান রয়েছে। সাহস সঞ্চয় করে ফোন করেন তাকে। বাপ্পার অনুরোধ শুনে লাকী আখান্দ শুধু যন্ত্র দেওয়ার প্রস্তাবই দেননি, বরং নিজেই গানটিতে অ্যাকর্ডিয়ান বাজানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এমন প্রস্তাবে বিস্মিত হয়ে যান বাপ্পা।
নির্ধারিত দিনে স্টুডিওতে এসে নিজ হাতে অ্যাকর্ডিয়ান বাজান লাকী আখান্দ। বাপ্পা মজুমদার এবং প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরী সেই মুহূর্তে মুগ্ধ হয়ে যান। তাদের মতে, লাকী আখান্দের বাজনায় গানটির আবেগ ও আবেদন সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেয়েছিল।
বাপ্পা জানান, শ্রোতারা ‘খোলা আকাশ, একটি গাছ’ গানে যে অ্যাকর্ডিয়ানের মুগ্ধ করা সুর শুনেছেন, সেটি ছিল লাকী আখান্দের নিজের যন্ত্রে তার নিজের বাজানো। সেই অভিজ্ঞতা আজও তার সংগীতজীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।
স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে বাপ্পা আরও বলেন, সেদিনের সেই রেকর্ডিং শেষ হওয়ার পর তিনি এক অপার্থিব আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত বারবার গানটি শুনে কাটিয়েছিলেন পুরো রাত।
পোস্টের শেষাংশে কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাপ্পা মজুমদার লেখেন, “আহা লাকী ভাই! ভালো থাকুন, যেখানেই থাকুন।”
বাংলা সংগীতের ইতিহাসে লাকী আখান্দের অবদান আজও অমলিন। তার সুর, কণ্ঠ এবং সংগীতচিন্তা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আর জন্মবার্ষিকীতে বাপ্পা মজুমদারের এই স্মৃতিচারণ যেন সেই প্রভাব ও ভালোবাসারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্তব্য করুন