দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর আকাশে দেখা যেতে যাচ্ছে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, যেখানে চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেবে। এই মহাজাগতিক ঘটনায় দিনের বেলাতেও পৃথিবীর কিছু অংশে সাময়িকভাবে অন্ধকার নেমে আসবে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা European Space Agency নিশ্চিত করেছে যে এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ নির্দিষ্ট সময়ে দেখা যাবে এবং এটি বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য এক বিরল দৃশ্য হতে চলেছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেবে, তখন সূর্যের আলো পুরোপুরি আড়াল হয়ে যাবে। এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে। এসব অঞ্চলে কয়েক সেকেন্ড থেকে দুই মিনিটেরও বেশি সময় পর্যন্ত সূর্য পুরোপুরি ঢেকে থাকবে।
ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মতে, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বশেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে, আর স্পেনের মূল ভূখণ্ডে এমন দৃশ্য শেষ দেখা যায় ১৯০৫ সালে।
গ্রিনল্যান্ডে পর্যবেক্ষকরা দুই মিনিটেরও বেশি সময় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন, যেখানে উত্তর স্পেনে এই সময়সীমা হবে প্রায় ২০ সেকেন্ড। নাসা সতর্ক করে বলেছে, গ্রহণ পর্যবেক্ষণের সময় বিশেষ সুরক্ষা চশমা ছাড়া সূর্যের দিকে তাকানো বা টেলিস্কোপ, ক্যামেরা কিংবা দূরবীন ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণ শুধু দৃষ্টিনন্দন একটি ঘটনা নয়, এটি সূর্যের বহিরাবরণ বা করোনা নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও তৈরি করে। এবারের গ্রহণে বিজ্ঞানীরা উচ্চ-উড্ডয়নক্ষম বেলুন ব্যবহার করে সূর্যের ছবি সংগ্রহ করবেন, যা ১৯১৯ সালের ঐতিহাসিক সূর্যগ্রহণ পরীক্ষার পুনরাবৃত্তির মতো একটি গবেষণামূলক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট, যা দক্ষিণ স্পেন, উত্তর আফ্রিকা, সৌদি আরব ও ইয়েমেন থেকে দেখা যাবে বলে জানিয়েছে নাসা।
মন্তব্য করুন