ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। ফলে সিরিজের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ।
১৭ অক্টোবর আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারালেও অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক দল। অন্যদিকে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা লড়াই করলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।
ইনিংসের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং করেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও অভিষিক্ত তাফাদজওয়া টিসিগাকে ফিরিয়ে মাত্র ২৪ রানের মধ্যে জিম্বাবুয়ের প্রথম তিন উইকেট তুলে নেন তিনি।
প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে ক্রিজে প্রতিরোধ গড়েন ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। দুজনই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নেন। তাঁদের ব্যাটে ভর করে দ্রুত উইকেট হারানোর চাপ কাটিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার। এই জুটি ভাঙার পর সাইফ হাসান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে ফিরিয়ে দেন। তবে অন্য প্রান্তে ক্রেইগ আরভিন নিজের ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন।
ক্রেইগ আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে ভর করে জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহের ভিত পায়। পরে শরিফুল ইসলাম তাঁকে আউট করে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন।
শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামহুরির দ্রুত রান সংগ্রহে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে জিম্বাবুয়ে। শেষ দিকে তাঁদের কার্যকর ব্যাটিং দলকে ২৭২ রানের লক্ষ্য দাঁড় করাতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের হয়ে আক্রমণাত্মক শুরু করেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে ইনিংসের শুরুতেই সৌম্য সরকার ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে আউট হন।
তানজিদ নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে তিনি দলের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার। কিন্তু দলীয় ৬৬ রানে তানজিদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে।
মিডল অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান প্রত্যাশা অনুযায়ী রান করতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দ্রুত চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে বড় লক্ষ্য তাড়া করার লড়াই ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
সাইফ হাসান ৩৭ বলে ২৬ রান করেন। তবে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় তাঁর এই ইনিংসও দলকে ম্যাচে ফেরাতে পারেনি।
বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ রান করেন। তাসকিন আহমেদ অপরাজিত ১৬ রান করলেও দলের পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর বাইরে আর কিছু করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। তিনি ৪৫ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও সিকান্দার রাজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
৯৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ক্রেইগ আরভিন। এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করল জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।
মন্তব্য করুন