ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেনি; বরং তেহরানই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে। একই সঙ্গে আগের একটি যুদ্ধবিরতিকে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর রিপাবলিকান দলের এক আইনপ্রণেতার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। ওই আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি। ইরানই আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে।’
সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, তেলের দাম আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি আগে থেকেই ধারণা করেছিলেন।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন এবং তাঁর বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। কারণ, আমাদের সামনে আসলে আর কোনো বিকল্প ছিল না। এটা অনেক আগেই করা উচিত ছিল।’
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের সঙ্গে আগের যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ওই ব্যবস্থা তাঁর কখনোই খুব একটা পছন্দ ছিল না। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র ভালো আচরণ করতে চাইলেও যুদ্ধবিরতিটি কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা অল্প সময়ের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি করেছিলাম, যা আমার কখনোই খুব একটা পছন্দ ছিল না। আমরা ভালো আচরণ করতে চাই। কিন্তু আমার বিবেচনায়, এটা ছিল নিছক সময়ের অপচয়।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। তাঁর অভিযোগ, এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতেও হামলা চালানো সম্ভব।
এ প্রসঙ্গে তিনি সান ডিয়েগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের নাম উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এসব শহরেও হামলা চালাতে পারত।
তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে হামলার সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালায়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা চলতে থাকে।
৮ জুলাই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা কার্যত শেষ বলে মন্তব্য করেন। নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়।
ইরান যুদ্ধের সূচনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে প্রকাশিত ঘটনাক্রমের পার্থক্য রয়েছে: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলাকেই যুদ্ধের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে ‘ইরানই যুদ্ধ শুরু করেছে’—এটি ট্রাম্পের দাবি, প্রতিষ্ঠিত নিরপেক্ষ তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
মন্তব্য করুন