অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

ইরানের অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে ইরানের অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট তীব্র হচ্ছে, কমতে শুরু করেছে তেলের উৎপাদন এবং আগামী শীতে বড় ধরনের জ্বালানি ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বেসেন্ট। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় আগামী আট সপ্তাহে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে। তাঁর দাবি, এই চাপের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকোচন দেখা দিতে পারে। তবে এটি মার্কিন অর্থমন্ত্রীর পূর্বাভাস; স্বাধীন অর্থনৈতিক মূল্যায়নে এই সংকোচনের মাত্রা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

শীতে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, মজুতের পরামর্শ

সাক্ষাৎকারে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বেসেন্ট ঘর গরম রাখার জ্বালানি মজুত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে পেট্রলের সম্ভাব্য সংকটের কথা উল্লেখ করে গাড়ির ট্যাংক আগেভাগে পূর্ণ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বেসেন্ট বলেন, ‘ঘর গরম রাখার জ্বালানি মজুত করা শুরু করুন। এ ধরনের জ্বালানির বড় সংকট দেখা দিতে যাচ্ছে।’ পেট্রলের ক্ষেত্রেও আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে বেসেন্ট দাবি করেন, খাদ্য ও ওষুধ আমদানির জন্য মানবিক সহায়তার পথ খোলা রয়েছে। তবে এসব আমদানির ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা ইরান সরকারের হাতে নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে’

ইরানি সাংবাদিক কামবিজ তাভানার সঙ্গে আলাপকালে বেসেন্ট বলেন, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ইরানের অর্থনীতি ২৫ শতাংশের বেশি সংকুচিত হতে পারে। তাঁর দাবি, এই সংকোচন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটির অর্থনীতিতে দেখা দেওয়া সংকোচনের চেয়েও বেশি হবে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ইরান সরকার অর্থ ছাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধে সমস্যায় পড়ছে এবং সামাজিক সুবিধা কমানোর পথে হাঁটছে।

তবে অর্থনৈতিক সংকোচনের এই পূর্বাভাসের পক্ষে বিস্তারিত হিসাব বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা অর্থনৈতিক মডেল সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি। ফলে বেসেন্টের বক্তব্যকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

ইরানের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে চাপের দাবি

বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, খার্গ দ্বীপে তেল বোঝাই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে এবং দেশটির তেল উৎপাদন কমতে শুরু করেছে।

ইরানের তেল রপ্তানির জন্য খার্গ দ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফলে সেখানে তেল বোঝাই বন্ধ থাকার দাবি সত্য হলে দেশটির রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে তার প্রভাব পড়তে পারে।

বেসেন্ট বলেন, ‘আমরা আট সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চালাচ্ছি। আগামী আট সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও তীব্র হবে।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন ইরানের আর্থিক লেনদেন, তেল বাণিজ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎসগুলোকে লক্ষ্য করে চাপ বাড়াতে চায়।

ইরানের নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য

বেসেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযান ইরানের সাধারণ জনগণের পরিবর্তে দেশটির নেতৃত্বকে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সংকট ইরানের রাজনীতিবিদ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এবং সর্বোচ্চ নেতার মধ্যে মতবিরোধ বাড়িয়ে তুলছে।

আইআরজিসির কয়েকজন কমান্ডার সাধারণ জনগণের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এসব বিষয়ে বেসেন্টের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে নেই।

ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতার চাপে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের চাপ দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

আলোচনার দরজা খোলা রাখছে ওয়াশিংটন

বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রস্তুত। তবে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে বলে শর্ত দেন তিনি।

এদিকে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা রোববার তেহরান সফর করেন। এরপর সোমবার সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার পথ পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে তৎপরতা চালান।

তবে অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও নিজেদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের অবস্থান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় অগ্রসর হতে হলে নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের শর্তগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি হিজবুল্লাহর

1

বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বের নতুন উন্মাদনা

2

নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলো ৩ মাসের জন্য ‘দুর্যোগকবলিত অঞ্

3

আসামে অবতরণের সময় বিমান বাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত

4

ব্রাজিলের ঘাম ঝরানো জাপানি গোলরক্ষক, কে এই সুজুকি?

5

ফ্রান্সের বিপক্ষে তারকা খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না মরক্কো

6

সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত

7

এবার এসএসসিতে পাসের হার ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

8

ভায়াগ্রা ব্যবহারের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কোচ

9

স্কাই স্পোর্টসের মূল্যায়নে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় মেসি, শীর

10

বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: অর্থমন্ত্রী

11

মেসির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি

12

হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু

13

বসতি স্থাপন ইস্যুতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইউরোপের নতুন চাপ

14

বিশ্বকাপের মাঠে হঠাৎ ড্রোন, আতঙ্কে ফুটবলাররা

15

সত্যিই কি বিয়ের পর ওজন বাড়ে? জেনে নিন

16

প্রথম নারী হিসেবে পুরুষ দলের প্রধান কোচ মেরি-লুইস

17

আর্জেন্টিনাকে হারানোর পেছনে ছিল রাজনৈতিক চাপ: পাবলো কাররোজা

18

আগামী ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

19

বিলুপ্ত র‍্যাব, যাত্রা শুরু এসআরবির

20