অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সঙ্গে কানাডার জোট

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। এর অংশ হিসেবে তুরস্কের সঙ্গে নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করেছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত দুই নেতার যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জটিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পরিবর্তনশীল মানবিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে কানাডা ও তুরস্কের স্থিতিশীল অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ অভিন্ন হুমকি মোকাবিলা এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর ভিত্তি তৈরি করবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দুই দিনের তুরস্ক সফরের মধ্যেই এ ঘোষণা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন বাজার ও কৌশলগত অংশীদার খুঁজে বের করার প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য

আঙ্কারায় কার্নির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার। পর্যায়ক্রমে তা প্রথমে ৫ বিলিয়ন এবং পরে ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় দুই দেশ।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী মাসে আঙ্কারায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য আলোচনার প্রথম পর্বে বসবেন।

এরদোয়ান বলেন, কানাডা ও তুরস্কের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা শুধু প্রতীকী পদক্ষেপ নয়; বরং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা।

নতুন কর্মপরিকল্পনায় জ্বালানি সরবরাহ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, মহাকাশ ও উড়োজাহাজশিল্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়বে

নতুন অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তাঁরা। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেন, দক্ষিণ ককেশাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গে গাজার নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে যৌথ উদ্যোগ

জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার করতেও উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা ও তুরস্ক। দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), পারমাণবিক জ্বালানি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ নিয়ে কাজ করবেন।

জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি মহাকাশ, উড়োজাহাজশিল্প ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে যৌথ বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অংশীদার খুঁজছে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বহুমুখী করার চেষ্টা করছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক, এর জবাবে কানাডার পাল্টা ব্যবস্থা এবং কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে চাপ সৃষ্টি করেছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন বাজার, বিনিয়োগের সুযোগ এবং কৌশলগত অংশীদার খুঁজছে অটোয়া। তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারকে সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কার্নির এই সফর কানাডার কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপক্ষীয় তুরস্ক সফর। এর আগে গত জুলাইয়ে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি আঙ্কারা সফর করেছিলেন।

বর্তমান সফরে এরদোয়ান ও তুরস্কের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ইস্তাম্বুলে দেশটির ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও আলোচনার কথা রয়েছে কার্নির। এসব আলোচনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ফলে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কানাডা-তুরস্ক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আগামী দিনের আলোচনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: আল-জাজিরা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্তিনেসকে ঘিরে স্বস্তি আর্জেন্টিনার

1

উৎসবের আমেজে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

2

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে ১ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা ইউএসজিএসের

3

সরকারকে চাপে ফেলতে রাজপথে নামার প্রস্তুতিতে বিরোধী জোট

4

সীমান্ত নির্ধারণে চীনের চাপ মেনে নিচ্ছে ভারত

5

জামিন পেলেন আমির হামজা

6

পাকিস্তানে এ-লেভেল প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

7

নেপালে বন্যায় ভেসে যাওয়া ব্যাংকের লকার থেকে টাকা লুট, আটক ২৯

8

নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিচ্ছেন না জেডি ভ্যান্স

9

নতুন গান নিয়ে ফিরছেন ঈশিতা

10

টিকটক দেখেই ভ্রমণের গন্তব্য ঠিক করছে জেন-জিরা

11

তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

12

জামালপুরের কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে নিহত ২

13

নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নিলো সরকার

14

পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ড্রোনের আঘাত, ‘অনিচ্ছাকৃত’ বল

15

আন্দিজের অচেনা ফুলে মেসির নাম, জানুন নামকরণের কারণ

16

রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা

17

এক মেসিতেই ভাগ্য বদল ইন্টার মায়ামির

18

ডিসেম্বরের হাইপ আর ন্যারেটিভ সেপ্টেম্বরেই শেষ: আসিফ

19

মার্কিন নির্ভরতা কমাতে তুরস্কের সঙ্গে কানাডার জোট

20