কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে সাগরে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে হিমছড়ির সাগর নিবাস এলাকা থেকে হারুন নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার রাতে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ অন্য কারও সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার বিকেলে হিমছড়ি মারিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকত থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান, সাইফুল হক জিসান ও মোহাম্মদ আকাশ।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত পাঁচ শ্রমিক কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন সাগরে গোসলে নামেন। একপর্যায়ে স্রোতের টানে তাঁরা ভেসে যেতে থাকেন।
সাগরের স্রোতে ভেসে যাওয়া ব্যক্তিরা দূরে থাকা সাতজনের একটি দলের কাছে সহযোগিতা চান। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করতে ওই দলের তিনজন সাগরে নামেন। একপর্যায়ে তাঁরাও পানিতে তলিয়ে যান বলে ফায়ার সার্ভিসের বরাতে জানানো হয়েছে।
খবর পেয়ে লাইফগার্ড ও স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাতজনের দলটি ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিল। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সাগরে গোসলে নামা পাঁচজন চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ছিলেন।
দুটি দলের পরিচয় ও ঘটনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু ভিন্ন তথ্য থাকায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সাগরের স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে সৈকতে গোসল করতে নামা পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে বিপজ্জনক এলাকায় সতর্কসংকেত উপেক্ষা করে পানিতে নামা এবং স্রোতে ভেসে যাওয়া কাউকে উদ্ধারের জন্য প্রশিক্ষণ ছাড়া সাগরে ঝাঁপ দেওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে।
পর্যটকদের লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা, বিপজ্জনক এলাকায় গোসলে না নামা এবং সাগরে কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা নেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন