ম্যাচের ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লংবল থেকে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির বিশতম গোল। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন দোরি দুয়ার্তে। এরপর দুই দলই আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল। মেসির দুটি ফ্রি কিক ও একটি শট ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির কর্নার থেকে ফিরতি বলে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বেশিক্ষণ এই লিড ধরে রাখতে পারেনি দলটি। সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত শটে আবারও সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১১১ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। মেসির কর্নার থেকে হেডে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর কাবরালের আরেকটি দুর্দান্ত ফ্রি কিক ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত এই লিড ধরে রেখেই ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩–২ গোলে জিতেছে । এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ সালাহর মিসর। কিন্তু কেপ ভার্দে হেরেছে কি?
পুরো ম্যাচে তারা যে সাহস, আত্মবিশ্বাস আর লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ। অনেক দিন মনে রাখার মতো এক পারফরম্যান্স। এক মুহূর্তের জন্যও তারা নিজেদের গুটিয়ে নেয়নি। বরং চোখে চোখ রেখে লড়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসিদেরকে জেতার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিতে হয়েছে।
অনেক দিন মনে রাখার মতো এক ফুটবল ম্যাচ! ছিল রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা, আবেগ, অবিশ্বাস্য সব মুহূর্ত। বিশ্বকাপ ফাইনালের অনুভূতি দেওয়ার মতো এক ম্যাচ! কেপ ভার্দে এই বিশ্বকাপে তিনটি বিশ্চচ্যাম্পিয়নকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছে। গ্রুপপর্বে তারা ড্র করেছিল স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে। আর আর্জেন্টিনাকে জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১২০ মিনিট পর্যন্ত।