অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

সৌদির আকাশে হুতিদের আতঙ্ক! কী আছে তাদের অস্ত্রভান্ডারে

হুতিদের হাতে কত ভয়ংকর অস্ত্র, কোথা থেকে আসে, সৌদি আরব কেন সব হামলা ঠেকাতে পারছে না

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সৌদি আরবের মতো আধুনিক সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত দেশও কেন সব হামলা ঠেকাতে পারছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর উত্তর খুঁজতে হলে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, অস্ত্র সংগ্রহের নেটওয়ার্ক এবং আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে।

সৌদি আরবে হামলা ঘিরে নতুন উদ্বেগ

অক্টোবরের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার কথা জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়ানোর তথ্য আসে।

হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, সৌদি বাহিনী একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এই পরিস্থিতি সৌদি আরবের নিরাপত্তা, বিমান চলাচল ও জ্বালানি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে কোনো একটি হামলা সফল হওয়া মানেই পুরো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। বরং ধারাবাহিক হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

হুতিরা কারা, কীভাবে শক্তিশালী হলো

হুতিরা ইয়েমেনের জায়দি শিয়া সম্প্রদায়ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র আন্দোলন। সংগঠনটি ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। তাদের আন্দোলনের সূচনা ১৯৯০-এর দশকে। সে সময় ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে জায়দি সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে সংগঠনটি শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে।

২০০৪ সালে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আন্দোলনের নেতা হুসেইন বদরেদ্দিন আল-হুতি নিহত হন। পরে তাঁর ভাই আবদুলমালিক আল-হুতি সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

হুতিদের বড় উত্থান ঘটে ২০১৪ সালে, যখন তারা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে। এর পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ সংঘাত দেশটিকে ভয়াবহ মানবিক সংকটে ঠেলে দেয়।

বছরের পর বছর যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ, সরকারি অস্ত্রভান্ডারের একটি অংশের দখল এবং বিদেশি প্রযুক্তিগত সহায়তা—সব মিলিয়ে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। তাদের শক্তির আরেকটি উৎস হলো ইয়েমেনের দুর্গম ভূপ্রকৃতি, যা প্রতিপক্ষের পক্ষে তাদের সব ঘাঁটি ও অস্ত্রের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে।

হুতিদের শক্তির পেছনে ইরানের ভূমিকা

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় ইরানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও জাতিসংঘের বিভিন্ন তদন্তে হুতিদের ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে ইরানি নকশা ও প্রযুক্তির মিল পাওয়া গেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হুতিরা কিছু অস্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি বা সংযোজন করতে সক্ষম হলেও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য তারা ইরানের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এই সহায়তা সব সময় সম্পূর্ণ তৈরি অস্ত্র সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, নির্দেশনা ব্যবস্থা, ইঞ্জিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরি বা সংযোজনের সক্ষমতাও গড়ে উঠতে পারে।

তবে ইরান হুতিদের প্রতিটি হামলার সরাসরি নির্দেশ দেয়—এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে সব ক্ষেত্রে প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। হুতিদের নিজস্ব নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। ফলে তাদের ইরানের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দেখা অধিক যথাযথ; শুধু ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী হিসেবে দেখলে বিষয়টি অতিসরলীকরণ হতে পারে।

হুতিদের হাতে কী ধরনের অস্ত্র রয়েছে

হুতিদের অস্ত্রভান্ডারে বিভিন্ন পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্থলভাগে আঘাত হানার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র এবং একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন রয়েছে। এসব অস্ত্রের সক্ষমতা এক নয়, আর প্রকাশিত পাল্লা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের সব দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র: হুতিদের হাতে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার বিভিন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ‘বুরকান’, ‘বদর’, ‘তুফান’ ও ‘প্যালেস্টাইন’ নামের অস্ত্রব্যবস্থার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কয়েকটির নকশার সঙ্গে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মিল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র: ‘কুদস’ পরিবারের মতো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে হুতিরা।

আক্রমণকারী ড্রোন: হুতিদের ব্যবহৃত কিছু ড্রোনের সঙ্গে ইরানের ‘শাহেদ-১৩১’ ও ‘শাহেদ-১৩৬’ নকশার মিল পাওয়া গেছে। একমুখী আক্রমণকারী এসব ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে গিয়ে বিস্ফোরকসহ আঘাত হানতে পারে।

সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র: লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার ক্ষেত্রে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক আক্রমণব্যবস্থার ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব অস্ত্র বাণিজ্যিক নৌ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

হুতিদের সব অস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা, প্রস্তুত অবস্থা ও মজুত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য তথ্য নেই। তাই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা সর্বোচ্চ পাল্লাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

অস্ত্র আসছে কোথা থেকে

হুতিদের অস্ত্র সংগ্রহের নেটওয়ার্ক নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন অস্ত্র গবেষণা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এসব অনুসন্ধানে ইরানি নকশার অস্ত্র, বিদেশি যন্ত্রাংশ এবং ইয়েমেনে অস্ত্র সংযোজনের প্রমাণ উঠে এসেছে।

২০২৫ সালে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে ইয়েমেনের পথে জব্দ করা সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র তৈরির উপকরণের বিবরণ দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে চীন থেকে আসা কিছু চালানে ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, অ্যান্টেনা ও নজরদারি সরঞ্জাম পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে: কোনো যন্ত্রাংশ চীনে তৈরি হওয়া মানেই চীন সরকার সরাসরি হুতিদের অস্ত্র সরবরাহ করছে—এমন নয়। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় বেসামরিক প্রযুক্তি, বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশ এবং দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অন্য দেশে পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা দ্য সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী গবেষণা এবং আইআইএসএসের বিশ্লেষণেও দেখা যায়, হুতিদের অস্ত্রভান্ডার শুধু সম্পূর্ণ তৈরি অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে ইয়েমেনের ভেতরে অস্ত্র সংযোজনের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

এই ব্যবস্থা হুতিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অস্ত্রের কিছু অংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি বা সংযোজন করা গেলে সরবরাহব্যবস্থার একটি অংশ ধ্বংস হলেও পুরো অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।

সৌদি আরব কেন সব হামলা ঠেকাতে পারছে না

সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়টের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা রয়েছে। তবে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকা মানেই প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে শতভাগ প্রতিহত করা সম্ভব—এমন নয়।

এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

১. বিশাল ভূখণ্ড ও বহু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু

সৌদি আরবের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে বিমানবন্দর, তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি ও নগরকেন্দ্র ছড়িয়ে রয়েছে। সব স্থাপনায় একই মাত্রার আকাশ প্রতিরক্ষা মোতায়েন করা কঠিন। কোন স্থাপনাকে কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

২. একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হামলা

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গতি, উড্ডয়নপথ এবং শনাক্তকরণের বৈশিষ্ট্য আলাদা। একসঙ্গে একাধিক দিক থেকে হামলা হলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দ্রুত লক্ষ্য শনাক্ত, হুমকি যাচাই এবং প্রতিরোধী অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

৩. প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

আক্রমণকারী ড্রোন তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব হলেও সেগুলো ঠেকাতে ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে হামলা চললে প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত ও পুনরায় সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ে।

৪. সতর্কতা ও শনাক্তকরণের সীমাবদ্ধতা

সব হুমকি একই সময়ে শনাক্ত করা যায় না। ভূপ্রকৃতি, উড্ডয়নপথ, রাডারের অবস্থান এবং আক্রমণের ধরন সতর্কতা পাওয়ার সময়কে প্রভাবিত করতে পারে। পর্যাপ্ত আগাম সতর্কতা না থাকলে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় কমে যায়।

৫. হুতিদের ছড়িয়ে থাকা অবস্থান ও দীর্ঘ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা

হুতিদের সব অস্ত্র এক জায়গায় রাখা হয় না। দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ঘাঁটি, চলমান লঞ্চার এবং স্থানীয়ভাবে অস্ত্র সংযোজনের সক্ষমতা তাদের সামরিক অবকাঠামোকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা কঠিন করে তোলে। বিমান হামলায় কিছু স্থাপনা ধ্বংস হলেও অন্য জায়গায় অস্ত্র ও সরঞ্জাম অবশিষ্ট থাকতে পারে।

এসব কারণে সৌদি আরব অনেক হামলা প্রতিহত করতে পারলেও সব হুমকি ঠেকানোর নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে প্রতিটি হামলা কীভাবে প্রতিরক্ষা ভেদ করেছে, তা নির্দিষ্ট ঘটনার রাডার তথ্য ও সামরিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালির গুরুত্ব

হুতিদের সামরিক প্রভাব শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইয়েমেনের অবস্থান লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রণালি দিয়ে লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের দিকে জাহাজ চলাচল করে। ফলে সেখানে হামলা বা নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, বীমা খরচ বৃদ্ধি এবং জাহাজকে দীর্ঘতর পথ ব্যবহার করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ ও বাব আল-মানদেব দুটি পৃথক জলপথ; একটির ওপর চাপ সৃষ্টি হলে অন্যটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে পারে, কিন্তু তারা একে অপরের বিকল্প নয়।

হুতিদের হামলা ও নৌ চলাচলে হুমকি বাড়লে সৌদি আরবের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

সামনে কী হতে পারে

হুতিদের সামরিক সক্ষমতা, বিদেশি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রয়েছে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা, শক্তিশালী বিমানবাহিনী এবং মিত্রদেশগুলোর সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ।

তবে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে হুতিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অস্ত্রের সরবরাহব্যবস্থা, স্থানীয় উৎপাদন ও সংযোজন, দুর্গম ভূখণ্ড এবং ইয়েমেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট এই সংঘাতকে জটিল করে তুলেছে।

শেষ পর্যন্ত হুতিদের সামরিক শক্তি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইয়েমেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অস্ত্রের আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা। এসব সমস্যার সমাধান না হলে সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিলের খেলা দেখে ক্লান্তির কথা বললেন মির্জা ফখরুল

1

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন দেশের বর্ণাঢ্য আয়োজন

2

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আশঙ্কা

3

আর্জেন্টিনাকে হারানোর পেছনে ছিল রাজনৈতিক চাপ: পাবলো কাররোজা

4

ভুয়া ও জাল সনদে অভিযুক্ত ৬৩ শিক্ষককে মাউশির নোটিশ

5

অস্ত্র হাতে ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযান, তদন্তের নির্দেশ পুলিশ

6

এক সতীর্থকে সান্ত্বনা, আরেক সতীর্থকে স্মরণ, জয়ের পর নজর কাড়

7

বিশ্বকাপে লোগো ঢেকে আলোচনায় জিলেটের অভিনব কৌশল

8

হাফিজুল হত্যা মামলা: দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

9

আজকের স্বর্ণের দাম

10

বিচার চাই না জবাব চাই, আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে: অপ্রতীমের

11

নতুন ভিসিকে বাধা, ডুয়েটে ব্লকেড

12

অবসরের পরিকল্পনা ‘চূড়ান্ত’ করেছেন মেসি!

13

বন্ধ কারখানা সচল করতে বিশেষ তহবিল হচ্ছে

14

ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় যেকোনো দিন

15

ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীর টান, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু

16

টানাপোড়েনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে রাজা চার্লস

17

আমি ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছি: গাজার শিক্ষক

18

ক্যানসার চিকিৎসায় ৩৬ কোটি অনুদান মেসির

19

গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪ ফিলিস্তিনি

20