অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কে মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধির কারণে নতুন শিক্ষাবর্ষে (২০২৫-২৬) কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (২৫ আগস্ট) নায়াগ্রা ফলস হাইস্কুলে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব উদ্যোগের কথা জানান। এর ফলে স্কুলে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। ২০২৩ সালে প্রথম এই নিয়ম চালু করেছিল ফ্লোরিডা।

নতুন নীতি অনুসারে, শিক্ষার্থীদের স্কুলের দিনের শুরুতে তাদের ফোন লক করে রাখা হবে এবং একটি থলিতে রাখা হবে যা দিনের জন্য ক্লাস ছুটি না হওয়া পর্যন্ত লক করা থাকবে।

ক্যাথি হোকল অভিযোগ করে বলেন, এক দশক ধরে পড়াশুনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। প্রতিদিন গড়ে ২৫০টির মতো নেতিবাচক নোটিফিকেশন শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। যার বেশিরভাগ নেতিবাচক আর ক্ষতিকারক। টেক কোম্পানিগুলো শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করেছে। এ কারণে নিউ ইয়র্ক দেশের প্রথম স্টেট হিসেবে অনলাইন মনিটাইজেশন বন্ধ করে দিয়েছে। 

সোমবারের গোলটেবিল বৈঠকে নায়াগ্রা ফলস সিটি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট মার্ক লরি এবং ল্যাকাওয়ানা সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট নাদিয়া নাশির উভয়ই উপস্থিত ছিলেন। তারা একমত যে- মোবাইল ফোনের ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষা থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে দেয়।

লরি বলেন, দিনের মাঝখানে যদি শিক্ষার্থীদের ফোনে ধরা পড়ে, তাহলে চার ধাপের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম ধাপ হলো তোমাকে সতর্ক করা, ফোনটা দূরে রাখো। দ্বিতীয় ধাপ হলো তোমার ফোনটা আমাকে দাও, দিনের শেষে তুলে নাও। তৃতীয় ধাপ হলো তোমার বাবা-মাকে ফোনটা তুলে নিতে হবে। চতুর্থ ধাপ হলো, তোমার বাবা-মাকে ফোনটা তুলে নিতে হবে এবং শুনানি করতে হবে।

নাশির বলেন, আপনি যখন স্কুলে থাকেন, তখন অবশ্যই শিক্ষাদান এবং শেখার উপর মনোযোগ দিতে হবে এবং পরিবারগুলি বিশ্বাস করতে পারে যে একবার শিক্ষার্থী এবং কর্মীরা নিরাপদে থাকলে, আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হল দ্রুত, স্বচ্ছভাবে এবং তারা যে ভাষায় বোঝে সেই ভাষায় যোগাযোগ করা। অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা জানেন যে কীভাবে যেকোনো সময় একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে হয় - ইমেলের মাধ্যমে, প্রধান অফিসে কল করে, রিমাইন্ড অ্যাপের মাধ্যমে, অথবা স্কুল পরিদর্শন করে।

নায়াগ্রা জলপ্রপাতের সিনিয়র হরজ্যোত কৌর বলেন, প্রতিবার যখন আমি লাঞ্চরুমে যাই, আমি মাথা দেখতে পাই। আমি মুখ দেখতে পাই না, আমি হাসি দেখতে পাই না। আমি মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে চাপা পড়ে থাকা মানুষ দেখতে পাই, এটা আমার কাছে অদ্ভুত যে আমি কারও কাছে গিয়ে- হেই, হ্যালো, কেমন আছো? বলতে পারি না কারণ তারা তাদের ফোনে এতটাই মগ্ন। 

তবে তিনি মনে করেন যে শিক্ষার্থীদের নতুন নীতিমালার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগবে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষার্থীরা তাদের ফোন থেকে দূরে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

1

বাসের ভাড়া কত বাড়বে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ

2

শিশুদের জন্য বই লিখলেন জামাল মুসিয়ালা

3

উৎসবের আমেজে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

4

পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণে আজ সিদ্ধান্ত

5

ঈদে ‘শিরোনাম’ দিয়ে বড়পর্দায় ওমর সানী

6

হাসিনা ও কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ

7

বিশ্বকাপে খেলতে ইরানের ১০ শর্ত

8

১১ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তন করলো সরকার

9

আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি নাহিদ রানার

10

বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: অর্থমন্ত্রী

11

ভারতে তীব্র তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোকে ১৬ জনের মৃত্যু

12

রাবির বৈশাখী শোভাযাত্রায় ঘোড়াগাড়ি টমটম, জ্বালানি সংকট নিয়ে ব

13

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া মিলে পানির নিচের ড্রোন

14

খেলাপি ঋণ কমার আড়ালে বাড়ছে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি

15

অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাওয়া এক মায়ের ৩৮ বছরের সংগ্রাম! ফিরলেন স

16

ইরান যুদ্ধে নিহত প্রবাসী শাহ আলমের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

17

হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তা মিশনে যুক্ত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

18

চাহিদা কমায় দেশে নেই লোডশেডিং

19

প্রথম একক ফুটবলার হিসেবে পেলেন প্রিন্সেস অব অস্তুরিয়াস পুরস্

20