দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির হার। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।
বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে। গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মে মাসের মূল্যস্ফীতির হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে মে মাসের শেষ দিকে জ্বালানি তেলের যে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, তার প্রভাব আগামী মাসগুলোর পরিসংখ্যানে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এদিকে সম্প্রতি বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। ফলে জুন মাসে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণত উৎপাদন, পরিবহন ও সেবা খাতের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
বাজারে ইতোমধ্যে চাল, শাকসবজি, মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় খরচ কমানো কিংবা সঞ্চয় থেকে ব্যয় মেটানোর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় বা মজুরি কম হারে বেড়েছে। এর ফলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য, বাসস্থান, যাতায়াত ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন