ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চাঁদ দেখার যে অভিজ্ঞতা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

ছবি: এএফপি

নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী চাঁদের বুক চিরে সুদূর মহাকাশে একটি ঐতিহাসিক সফর শেষে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা নিজেদের অভিভূত হওয়ার অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।

ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে নভোচারীরা চাঁদের অসংখ্য গিরিখাত, ফাটল এবং শৈলশিরার ছবি তুলেছেন। এছাড়াও তারা বিরল কিছু মহাজাগতিক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে চাঁদ ও পৃথিবীর মেলবন্ধনে ‘আর্থরাইজ’, সূর্যগ্রহণ এবং ওরিয়েন্টাল ইমপ্যাক্ট বেসিনের মতো অংশের ছবি, যা আগে কখনো মানুষের চোখে ধরা পড়েনি।

চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করার সময় নভোচারীরা প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। নাসার প্রথম নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, চাঁদের ভূপ্রকৃতি এত কাছ থেকে দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে চাঁদের ধূসর বুক চিরে ল্যাম্পশেডের ছিদ্র দিয়ে আসা আলোর মতো উজ্জ্বল নতুন নতুন গর্তগুলো তাকে মুগ্ধ করেছে।

নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার জানান, জানালার বাইরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল যেন তিনি নিজেই চাঁদের সেই রুক্ষ পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছে আর্টেমিস-২ দলের এই অভিযান ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। অভিযানের সাফল্যে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন।

কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, চাঁদের বিপরীত পাশের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে গভীর অন্ধকার এলাকা বা মারের আধিক্য অনেক কম। রিড ওয়াইজম্যান মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, এই অভিযান মানবজাতিকে ‘টু-প্ল্যানেট স্পিসিস’ বা দুই গ্রহের প্রজাতি হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই অভিযানে অপটিক্যাল কমিউনিকেশন ব্যবহার করে মাত্র ৪৫ মিনিটে ২০ গিগাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মার্কিন পূর্ব সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করার কথা রয়েছে। তবে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ, যেখানে বাতাসের ঘর্ষণে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

এই সফল চন্দ্রাভিযান মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশে মানুষের আগামীর স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করেছে এবং ভবিষ্যতে মানবজাতির দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের পথ প্রশস্ত করেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসির শেষ নৃত্য, নাকি সালাহর নতুন ইতিহাস

1

মেসির সঙ্গে কাঁদলেন স্কালোনিও

2

প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো

3

রাতভর মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখলে কি ব্যাটারি নষ্ট হয়?

4

স্পেনকে রুখে দিয়ে এক রাতেই ৪৯ লাখ ফলোয়ার ভোজিনহার

5

ভ্রমণ জটিলতা কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাল উরুগুয়

6

দেশে ফিরেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে লজ্জা শেখালেন বাঁধ

7

দেশের ৫৩.৪% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন

8

সরকারি খরচ আরও কমাতে বলেছে আইএমএফ, বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্

9

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো চূড়ান্ত, কে কার প্রতিপক্ষ, জেনে নিন

10

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

11

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

12

কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে পরিকল্পনা বদল স্কালোনির

13

পাঁচ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

14

তুমি চাইলে আমার গোল্ডেন বলটা নিতে পারো: মেসি

15

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

16

ব্যাটারির গলিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচের ইঙ্গিত অমির

17

দীর্ঘ ১১ বছর কেমোথেরাপির পর জানা গেল ক্যানসারই হয়নি

18

ফ্রান্সের বিপক্ষে তারকা খেলোয়াড়কে পাচ্ছে না মরক্কো

19

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপ ব্যর্থ হবে

20