মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পদ হারালেন কেটি জাকারিয়া। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ই তাঁর কাছে পৌঁছায় ট্রাম্পের বার্তা—এই দায়িত্বে থাকা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে তাঁকে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে তাঁর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে নিজের কার্যালয়ে বসে পত্রিকাটির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কেটি। এ সময় ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জেসন মিলার তাঁর কক্ষে এসে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান।
এর কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, কেটিকে তিনি দায়িত্বে থাকার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি কেটিকে প্রশ্ন করেছিলেন, এই কাজটি তাঁর জন্য উপযুক্ত কি না। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, কেটির এই চাকরির প্রয়োজন নেই এবং তাঁর জায়গায় থাকলে তিনি নিজেও বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতেন।
এরপর কেটি আর সাক্ষাৎকারে ফিরে আসেননি বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন কেটি। তবে তাঁর উপস্থাপনা নিয়ে দ্রুত সমালোচনা শুরু হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। পুরো আয়োজন স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ১৪ মিনিট।
প্রথম সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর আইনজীবী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্প তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও পরে কেটি স্বীকার করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি।
এক সাংবাদিক তাঁকে জানতে চেয়েছিলেন, কোথায় তিনি বার পরীক্ষায় পাস করেছেন। জবাবে কেটি চীনে থাকার সময় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে তিনি জানান, সেখানকার পরীক্ষাতেও তিনি পাস করেননি।
কেটির দাবি, চীনে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনি কাজ করেছেন এবং এ ধরনের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অনুমোদন তাঁর ছিল।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির অনুষ্ঠানেও নিজের আইন পেশার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন কেটি। হ্যানিটি জানতে চান, তিনি কেন সরাসরি বলেননি যে আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তাঁকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর আগে কেটি রক্ষণশীল ধারার রেডিও অনুষ্ঠান ‘দ্য ক্লে ট্রাভিস অ্যান্ড বাক সেক্সটন শো’-তে কাজ করেছেন।
পদ হারানোর কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া বক্তব্যে কেটি বলেন, সীমিত সময় ও তথ্যের মধ্যেও সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের সেবা করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টেও ট্রাম্পের প্রশংসা করেন তিনি। কেটি লেখেন, ট্রাম্প একজন দয়ালু, উদার, চিন্তাশীল ও পরিশ্রমী মানুষ। তাঁর হয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সম্মানের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন কেটি।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় পদ ছাড়েন। কেটি জাকারিয়ার বিদায় ঘটল তারও কম সময়ে—মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়।
তাঁর বিদায়ের ফলে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগবিষয়ক পদটি আবারও শূন্য হলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন সময়ে এই পরিবর্তন ঘটেছে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি কে হবেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্য করুন