বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ইরান। ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করেছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ, যিনি একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বেলজিয়ামের আক্রমণভাগকে হতাশ করেন।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ২৩টি শট নেয় ইউরোপীয় দলটি। এর মধ্যে সাতটি শট ছিল লক্ষ্যে, কিন্তু সবকটিই অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেইরানভান্দ।
ম্যাচের শুরুতেই চোটের শিকার হন ইরানের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। কেভিন ডি ব্রুইনের ক্রস থেকে বল ধরতে এগিয়ে গেলে রোমেলু লুকাকুর সঙ্গে সংঘর্ষে তার বুকে আঘাত লাগে। কিছু সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর আবারও মাঠে ফিরে আসেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এবং এরপরই শুরু হয় তার নৈপুণ্যের প্রদর্শনী।
১১তম মিনিটে লেয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের প্রচেষ্টার পর ফিরে আসা বলে মাক্সিম ডি কাইপারের শট দারুণভাবে ঠেকান বেইরানভান্দ। অন্যদিকে ১৪তম মিনিটে থিবো কোর্তোয়াও বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন, যখন হোসেন কানানির জোরালো শট তিনি প্রতিহত করেন।
২৫তম মিনিটে ইরান এগিয়েও গিয়েছিল। এহসান হাজিসাফির ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠান মেহদি তারেমি। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়।
প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়াম ইরানের শক্ত রক্ষণ এবং বেইরানভান্দের দৃঢ়তার কাছে বারবার ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। ৬০তম মিনিটে ডি কাইপারের কাছ থেকে আসা নিশ্চিত গোলের সুযোগ এক হাতে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরিয়ে দেন ইরানি গোলরক্ষক।
৬৬তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। নাতাঁ উঙ্গয় বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেহদি তারেমিকে পেছন থেকে ফাউল করলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ম্যাচের শেষ অংশে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইউরোপীয় দলটিকে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও আরও একটি দুর্দান্ত সেভ করেন বেইরানভান্দ। ডি কাইপারের জোরালো শট ঝাঁপিয়ে রুখে দিয়ে গোলশূন্য সমতা নিশ্চিত করেন তিনি। সাতটি সেভ করে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
এই ড্রয়ের ফলে দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ইরান। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বেলজিয়াম। অন্যদিকে মিশর ও নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট একটি করে।
বিশ্বকাপে এর আগে কখনো নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি ইরান। তবে এবারের আসরে তাদের পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলেই ইতিহাস গড়ার সুযোগ থাকবে এশিয়ার দলটির সামনে।
মন্তব্য করুন