যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, গ্যালারির আচরণ দিয়েও নজর কেড়েছেন জাপানের সমর্থকরা। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের রোমাঞ্চকর ম্যাচের পর স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে তারা আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাইরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি থাকলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে দুই দল শুরু থেকেই সতর্ক ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকার পর বিরতির পর নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভারজিল ভ্যান ডাইক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।
তবে জাপান দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। কিয়ানো নাকামুরার দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরানোর পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। কিছুক্ষণ পর ক্রেসেন্সিও সামারভিলের চমৎকার বাঁকানো শটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। শেষ মুহূর্তে কোকি ওগাওয়ার শক্তিশালী হেড দাইচি কামাদার গায়ে লেগে জালে জড়ালে ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।
মাঠের এই রোমাঞ্চের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জাপানি সমর্থকদের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রায় ছয় হাজার মাইল দূর থেকে ডালাসে আসা অনেক সমর্থক নিজেদের সঙ্গে আবর্জনা সংগ্রহের ব্যাগ নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন। খেলা শেষে অন্য দর্শকেরা চলে গেলেও তারা গ্যালারিতে থেকে পড়ে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত ছিলেন।
ম্যাচের আগে ডালাসের রাস্তায় জাপানি সমর্থকদের শোভাযাত্রাও নজর কাড়ে। হাতে পরিচ্ছন্নতার ব্যাগ নিয়ে তারা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে স্টেডিয়ামের দিকে এগিয়ে যান, যা স্থানীয়দেরও মুগ্ধ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অনেকেই জাপানি সমর্থকদের ‘শ্রদ্ধাশীল’, ‘দায়িত্ববান’ এবং ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভদ্র ফুটবল সমর্থক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, মাঠের বাইরের আচরণে জাপান সবসময়ই বিজয়ী। আরেকজন লেখেন, এমন সচেতনতা ও শৃঙ্খলা বিশ্বজুড়ে অনুসরণযোগ্য উদাহরণ।
এ ধরনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। অতীতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, বিশ্বকাপ এবং প্রীতি ম্যাচেও জাপানি সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। একইভাবে জাপানের খেলোয়াড়রাও ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম পরিষ্কার রাখার জন্য পরিচিত। অনেক সময় তারা ধন্যবাদ বার্তা এবং কাগজের তৈরি ঐতিহ্যবাহী ওরিগামিও রেখে যান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি সমাজে ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়া হয়। সেই সাংস্কৃতিক চর্চার প্রতিফলনই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে বারবার দেখা যায়, যা বিশ্ববাসীর কাছে জাপানকে অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
মন্তব্য করুন