ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বকাপ শুরুর দিনেই টিকিট কেলেঙ্কারি

প্রতীকী ছবি

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই নতুন বিতর্কে সরগরম হয়ে উঠেছে ক্রীড়াঙ্গন। টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম ও সমর্থকদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফাকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়া এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে মাঠের বাইরের নানা ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। বিশেষ করে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আয়োজকদের স্বচ্ছতা নিয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে বিপুলসংখ্যক টিকিট বাজারে না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সমালোচকদের দাবি, এর ফলে চাহিদা বেড়ে যায় এবং টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া স্টেডিয়ামের আসনের অবস্থান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার কারণে অনেক দর্শক প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি।

এই অভিযোগগুলোর পর নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের আওতায় এনেছে। তদন্তের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।

টিকিট বিতর্কের পাশাপাশি আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো ‘স্পোর্টসওয়াশিং’ ইস্যু। সমালোচকদের একাংশের দাবি, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে অনেক সময় রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরেও এমন আলোচনা সামনে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কয়েকজন গবেষক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর কোনো দেশের প্রভাব, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে ঘিরেও একই ধরনের বিতর্ক দেখা গেছে।

এদিকে ফিফা সভাপতি Gianni Infantino–কে ঘিরেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তার কিছু সিদ্ধান্ত এবং সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের স্পন্সর নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

বিশেষ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান Saudi Aramco–কে স্পন্সর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন পরিবেশ কর্মীরা। তাদের মতে, পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

ফিফার পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে ফুটবলের বিস্তার এবং আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তবে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, সম্প্রসারিত টুর্নামেন্টের পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থও বড় ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই ফুটবলের পাশাপাশি টিকিট বিক্রি, স্পন্সরশিপ, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের ঘটনাগুলোও এবারের বিশ্বকাপে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাতার ও ইসরায়েলকে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

1

হাঁটুর ইনজুরিতে আধুনিক চিকিৎসা ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি

2

বৃষ্টির দিনে ঢাকার যানজট যেভাবে এড়িয়ে চলবেন

3

দাদির ভিডিও বার্তা দেখে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস

4

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

5

ইরানে আবার হামলা হলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে : আইআরজিসি

6

এইচএসসি ২০২৬ পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা

7

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে ১ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা ইউএসজিএসের

8

গোসলে নেমে তলিয়ে গেলেন দাদা, বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল নাতি-নাত

9

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও থামাতে ব্

10

আমি শিবের ভক্ত, বিষ গিলে নেব: মোদি

11

গোলাম সারোয়ার মিলনের জানাজা সম্পন্ন

12

দ্রব্যমূল্যে অস্থির জনজীবন

13

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৬.৬৮ শতাংশ

14

মে মাসের মধ্যেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশাবা

15

ফ্রিজ ভালো রাখার উপায়

16

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে ৪০ হাজার গাছ লাগাবেন সমর্থকেরা

17

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন ও একতরফা শুল্ক আরোপের নিন্দায় ১১

18

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে: স্বে

19

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণ

20