দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের মাঠে জয়ের দেখা পেয়েছে কভেন্ট্রি সিটি। নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় এক রাত উপহার দিয়েছে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল। তবে এমন বড় জয়ের পরও খেলোয়াড়দের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে মাটিতে পা রেখে চলার পরামর্শ দিয়েছেন কভেন্ট্রি কোচ।
ইংলিশ ফুটবলে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে ছিল কভেন্ট্রি। প্রতিপক্ষের শক্তি ও অবস্থান বিবেচনায় এই জয় ছিল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। নিজেদের মাঠে এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের কারণও ছিল যথেষ্ট।
কভেন্ট্রির সর্বশেষ ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সময় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এমা বান্টনের ‘হোয়াট টুক ইউ সো লং?’ গানটি চার্টের শীর্ষে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গানের শিরোনামটির সঙ্গে দীর্ঘ অপেক্ষার পর কভেন্ট্রির এই জয়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পেনাল্টি থেকে গোল করে কভেন্ট্রিকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার জ্যাক রুদোনি। তাঁর গোলে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে জন হার্টসনের গোলের পর নিজেদের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে এটিই ছিল কভেন্ট্রির প্রথম গোল—এমন তথ্যও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, ৪৮ মিনিটে সিদিকি চেরিফের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। ৭০ মিনিটে স্ভেন বটমানের গোলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে নিউক্যাসল। তবে শেষ দিকে আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে কভেন্ট্রি।
৮১ ও ৮৬ মিনিটে করা গোল দুটি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। ২০০০ সালের মে মাসে শেফিল্ড ওয়েডনেসডের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের পর ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে এই প্রথম কোনো ম্যাচে চার গোল করল কভেন্ট্রি—প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।
দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। তাঁর মতে, খেলোয়াড়েরা মাঠে ঠিক সেভাবেই পারফর্ম করেছেন, যেভাবে তিনি দলকে দেখতে চান।
ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘খুব সন্তুষ্টির। আমরা যেমন দল হতে চাই, ঠিক তেমন খেলেছি। পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স।’
তবে এই জয়ের পর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়ার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তিনি। সামনে কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখার আহ্বান জানান কভেন্ট্রি কোচ।
তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য অবশ্যই দারুণ এক অনুভূতি। পা মাটিতে রাখতে হবে। কারণ, আমাদের পরের ম্যাচটি (টটেনহাম) কঠিন এবং তার পরেরটিও সহজ হবে না।’
দলের চারজন খেলোয়াড়ের গোল পাওয়াকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন ল্যাম্পার্ড। গত মৌসুমে তাঁর কোচিংয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোল করা দলগুলোর একটি ছিল কভেন্ট্রি। এবারও আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ধরে রাখতে চান তিনি।
অন্যদিকে কভেন্ট্রির কাছে ৪-১ গোলে হেরে হতাশ নিউক্যাসল ইউনাইটেড। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বোর্নমাউথ ও চেলসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি লিগে সর্বোচ্চ গোল হজমকারী দল হয়ে উঠেছে নিউক্যাসল।
ছয় ম্যাচে আট পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১১তম স্থানে ছিল দলটি। বড় হারের পর নিউক্যাসল কোচ ম্যাথিয়াস জাইসলে বলেন, এই ফল মেনে নেওয়া কঠিন। তাঁর মতে, লিগে নিজেদের ভুলের কারণেই দলকে এমন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।
সমর্থকদের আরও ভালো ফল প্রাপ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি তাঁদের কাছে ক্ষমা চান।
নিউক্যাসলের বিপক্ষে বড় জয়ের ফলে অবনমন অঞ্চল থেকে উঠে পয়েন্ট টেবিলের ১৪তম স্থানে পৌঁছে যায় কভেন্ট্রি। ছয় ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দলটি এখন সামনে আরও ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চাইবে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে এমন জয় কভেন্ট্রির খেলোয়াড় ও সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। তবে ল্যাম্পার্ডের বার্তা স্পষ্ট—একটি বড় জয়ই শেষ কথা নয়; ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখাই হবে দলের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন