বিএসএফের ধারাবাহিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পূর্ব উচনা ঘোনাপাড়া সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কঠোর অবস্থান গ্রহণ করায় শেষ পর্যন্ত তাদের সেই উদ্যোগ বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়।
অন্যদিকে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে একদল নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির তৎপরতার কারণে কয়েকদিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের পরে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় পুশইনের সম্ভাবনা সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক ছিল বিজিবি। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়। তিনি জানান, এক পর্যায়ে ভারতীয় সীমান্তে ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে জড়ো করতে দেখা যায়। পরে বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার একটি অংশ খুলে ১০ থেকে ১২ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিজিবির কড়া নজরদারির কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।
বিজিবির দাবি, আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তে অবস্থান করা ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেনি বিএসএফ।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় চাপ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়ি, কুড়িগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত দিয়েও একই ধরনের পুশইনের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ঘোনাপাড়া সীমান্তে ২৮১ নম্বর পিলারের কাছে প্রায় ৫০ মিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত দূরত্ব বজায় না রেখেই এই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। বিজিবি আপত্তি জানালে নির্মাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে তারা কৃষিজমিতে যেতে এবং গবাদিপশু চরাতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার ঘটনা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় স্থানান্তর করা হয়।
সীমান্তজুড়ে একের পর এক পুশইন চেষ্টা, বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিজিবি বলছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অবৈধ কোনো কর্মকাণ্ডই সফল হতে দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন