ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালীতে আবারও বাড়ছে জাহাজ চলাচল

হরমুজ প্রণালী |ফাইল ছবি

যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আবারও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ১১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত প্রণালী দিয়ে মোট ৫৫টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের একটি রেকর্ড।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রথম হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থান নেয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এখন আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক জাহাজকে প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দিচ্ছে। এর আগের দিন তারা জানিয়েছিল, ৩০টিরও বেশি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যদিও চলাচল বেড়েছে, তবুও বর্তমান সংখ্যা যুদ্ধকালীন গড় হিসাবের মধ্যেই রয়েছে। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬৩টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা গড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫৫টি জাহাজের সমান।

গত সপ্তাহে চলাচল করা জাহাজগুলোর প্রায় অর্ধেক ছিল তরল পণ্যবাহী ট্যাংকার। এর মধ্যে তিনটি অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজের গন্তব্য ছিল চীন, ওমান ও জাপান। এছাড়া ১৫টি শুষ্ক পণ্যবাহী জাহাজ এবং ১৬টি এলপিজি ট্যাংকারও প্রণালী অতিক্রম করেছে।

কাতারের গ্যাস বহনকারী মাত্র একটি এলএনজি ট্যাংকার ১২ মে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এলএনজি ট্যাংকার চলাচলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এছাড়া সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও এই নৌপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।

তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল আর কখনও পুরোপুরি যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। সোমবার তেহরান এই নৌপথ তদারকির জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

সংঘাত শুরুর পর থেকেই চীন ও ভারত হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর অন্যতম প্রধান গন্তব্য ও বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। তবে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর গন্তব্য উল্লেখ করা জাহাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে হরমুজ প্রণালীতে সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। তবে নতুন ফি ব্যবস্থা ও কড়াকড়ি নজরদারি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাপানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প

1

মে দিবসে নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ

2

জামালপুরের কোরবানির পশুর হাটে মহিষের আক্রমণে নিহত ২

3

৫,৩০০ বছর পুরোনো মমিতে মিলল জীবন্ত অণুজীবের সন্ধান

4

ভোরে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

5

মার্কিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন রুট এখন ইরানের হাতে

6

বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীতে সবজির দাম বেড়েছে

7

মাটির অণুজীব কীভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করে

8

নতুন সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

9

বিশ্বে সপ্তম দূষিত শহর ঢাকা

10

মধ্যপ্রাচ্যকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়েছে সৌদি আরবের কৌশলী অবস্থ

11

অর্থনীতির সব সূচকই চাপে: মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, রিজার্ভে টান

12

রোম পুড়লে নিরো হয়ে বসবো না: ডা. শফিকুর রহমান

13

রাজধানীর কালশীর বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনিট

14

হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

15

ইরানের প্রস্তাবের জবাব দিল যুক্তরাষ্ট্র, পর্যালোচনায় তেহরান

16

সারা দেশে কালবৈশাখীর আশঙ্কা

17

বিক্ষোভের চাপে বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

18

ভারতকে কড়া বার্তা দিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী

19

সংরক্ষিত নারী প্রার্থীদের যত সম্পদ

20