২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিসা ইস্যু। ইরানের অভিযোগ, জাতীয় ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা দেওয়া হয়নি। যদিও মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, দলের সব খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীরা ভিসা পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় স্টাফদের ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে তুরস্কে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে। দূতাবাসের দাবি, দলের ব্যবস্থাপনা, নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রযুক্তিগত উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তাসহ প্রায় ১৫ জন প্রশাসনিক প্রতিনিধিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান দল তুরস্কের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শেষ করে মেক্সিকোতে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ভিসা শর্তে খেলোয়াড় ও প্রতিনিধিদের শুধুমাত্র ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং খেলা শেষে একই দিনে ফিরে যেতে হবে।
ইরান এই পরিস্থিতিকে ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার হস্তক্ষেপও চেয়েছে তেহরান।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এবার এমন একটি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক থাকা ইরানও অংশগ্রহণ করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলে এমন কেউ থাকতে পারবেন না, যাদের সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই অবস্থানও ভিসা বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে বেলজিয়াম ও মিশর। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ভিসা ইস্যু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন