ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারে লোডশেডিংয়ে ৩০ হাজার পর্যটকের বুকিং বাতিল

কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে অচল ট্রান্সফরমার সচল করার কাজ চালাচ্ছেন প্রকৌশলীরা।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট থাকার কথা ছিল দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার। তবে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট সেই আনন্দে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যটকদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক তাঁদের বুকিং বাতিল করেছেন বা নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন।

ঈদের দিন ভোরে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ট্রান্সফরমারটি এখনো পুরোপুরি সচল না হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হোটেল-মোটেল জোনে।

কলাতলী এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্টে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ হোটেলকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

হোটেল মালিকদের সংগঠনের নেতারা জানান, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় বহন করেও পর্যটকদের প্রত্যাশিত মানের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক পর্যটক অসন্তুষ্ট হয়ে বুকিং বাতিল করছেন। কেউ কেউ ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হোটেলে স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না। এসি, ফ্যান ও লিফট ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় লিফটে আটকা পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেনারেটর চালাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজেল খরচ হচ্ছে। অনেক হোটেলে শুধু জ্বালানি ব্যয়েই প্রতিদিন কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে ঈদ মৌসুমে প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক লাভের পরিবর্তে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজারের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, এই সংকট শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যটকেরা যদি নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যান, তাহলে ভবিষ্যতে পর্যটন খাতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমারটি মেরামতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে বিদ্যমান ট্রান্সফরমারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

পিডিবির কর্মকর্তাদের আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিকল ট্রান্সফরমার সচল করা সম্ভব হবে। সেটি চালু হলে কক্সবাজার শহর ও হোটেল-মোটেল জোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং পর্যটকদের দুর্ভোগও কমে যাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

1

ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনাকে সমর্থন হোয়াইট হাউসের

2

কম খেলেও ওজন বাড়ে কেন

3

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

4

মে মাসের ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২১৮ কোটি ডলার

5

সরকার বাধা দিলে লংমার্চের ৬ দফা এক দফাতে পরিণত হবে: নাহিদ

6

মেয়র নির্বাচনের ঘোষণা নীলা ইসরাফিলের

7

‘অ্যাসিডিটি’ ভেবে ভুল নয়, হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো চিনুন

8

এইচএসসি অভিন্ন প্রশ্নপত্র

9

আমার আগে পর্তুগাল কিছুই জেতেনি: বিদায়ের পর রোনালদো

10

মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ল, রোববার থেকে নতুন সূচি

11

বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে এবার সৌদিতে সর্বোচ্চ ভবন

12

বাবার টাকা চুরি করে প্রেমিকার সঙ্গে রিসোর্টে অবস্থান, আইফোন

13

ঈদুল আজহায় সংবাদপত্রে ৫ দিনের ছুটি ঘোষণা

14

১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল চীন

15

আর্জেন্টিনা-জর্ডানের খেলা দেখতে উট বিক্রি!

16

চোখের পাতার টিউমারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

17

বিদায়ের মঞ্চে মেসি-রোনালদো-নেইমার, শেষ বিশ্বকাপের আবেগ

18

হামের টিকা সংকট ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে: স্বাস্থ্য স

19

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বাইরের শক্তির হাতে নির্ধারিত হতে পার

20