ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা দেশের শহর ছাড়িয়ে এখন পৌঁছে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও। এরই ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে, যেখানে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে চোখ ধাঁধানো নানা আয়োজন।
আর্জেন্টিনা সমর্থকদের পক্ষ থেকে ছন, বাঁশ, কাঠ, মাটি ও রঙতুলির ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির প্রায় ১৬ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য। স্থানীয়দের মতে, এটি এলাকায় বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৭ জুন আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগেই ভাস্কর্যটির কাজ সম্পন্ন হবে। প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিকৃতির সামনে বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আয়োজক সজীব বিশ্বাস জানান, এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে—এ কারণেই তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভাস্কর্য ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিনই মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।
অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকরাও পিছিয়ে নেই। তারা ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের একটি বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করেছেন। পাশাপাশি বাজার ও বিভিন্ন এলাকায় টানানো হয়েছে প্রায় ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল ব্রাজিল পতাকা, যা স্থানীয়দের নজর কাড়ছে।
ব্রাজিল সমর্থক সুধাংশু মজুমদার ও কল্লোল বিশ্বাস জানান, এই পতাকা ও প্রতিকৃতি দেখতে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। তাদের পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের নিয়ে একসঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে খেলা উপভোগ করার।
শুধু খেলা দেখা নয়, পুরো এলাকা জুড়ে থাকছে উৎসবের আবহ। দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে আপ্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও। ফলে গ্রামজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী বিশ্বকাপ মেলা।
স্থানীয় চা দোকানি বিন্দু বাড়ৈ জানান, বিশ্বকাপ ঘিরে এলাকায় মানুষের ভিড় বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দোকান ও ব্যবসায়। আড্ডা ও বিক্রিবাট্টা দুটোই বেড়েছে আগের তুলনায়।
সব মিলিয়ে গোপালগঞ্জের এই গ্রামগুলো এখন পরিণত হয়েছে ফুটবলভিত্তিক এক বর্ণিল উৎসবমুখর মঞ্চে, যেখানে মেসি–নেইমারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী আবেগ ও উন্মাদনা।
মন্তব্য করুন