বিশ্বকাপে অবশেষে গোলের দেখা পেয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু দলের বড় জয়ই নিশ্চিত করেননি, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের প্রত্যাবর্তার বার্তাও দিয়েছেন এই তারকা ফুটবলার।
মঙ্গলবারের ম্যাচে রোনালদোর দুই গোলের ওপর ভর করে ৫-০ গোলের বড় জয় পায় পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের হতাশা কাটিয়ে এই জয়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে দল এবং সমর্থকদের মধ্যে।
এই ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনালদো বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়েন। তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিংবদন্তি ইউসেবিওর রেকর্ডও ভেঙে দেন তিনি।
টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড যখন গোলের লড়াইয়ে আলোচনায় ছিলেন, তখন নিজের নামও সেই তালিকায় যুক্ত করলেন রোনালদো। তার পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করেছে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা।
ম্যাচ শেষে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে রোনালদো বলেন, ‘আই এম ব্যাক’। সংক্ষিপ্ত এই বার্তাই যেন তার আত্মবিশ্বাস, প্রত্যাবর্তন এবং সমালোচকদের জবাব হয়ে উঠেছে।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোর প্রশংসা করে বলেন, মেসি ও রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছে। তার মতে, এই দুই কিংবদন্তি একে অপরকে আরও উন্নত হতে অনুপ্রাণিত করেছেন।
মার্তিনেজ বলেন, রোনালদো শুধু গোল করার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নন; তার পাস, সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা এবং নেতৃত্বগুণও দলের জন্য সমান মূল্যবান। ড্রেসিং রুম ও মাঠ—দুই জায়গাতেই তিনি তরুণদের জন্য আদর্শ।
তিনি আরও জানান, কখনোই রোনালদোকে নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান হতে দেখেননি। প্রতিদিন নতুন উদ্যমে অনুশীলন করা এবং নিজেকে আরও উন্নত করার মানসিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
উজবেকিস্তানের কোচ ফাবিও ক্যানাভারোও রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রশংসা করেছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী এই ইতালিয়ান কিংবদন্তি বলেন, রোনালদোকে এক মুহূর্তের জন্যও ফাঁকা জায়গা দেওয়া যায় না। সুযোগ পেলেই তিনি গোল করে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন।
ম্যাচ শেষে ক্যানাভারো রোনালদোর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আরও কয়েক বছর ফুটবল খেলে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও রোনালদোর ঐতিহাসিক অর্জনের প্রশংসা করেছেন। তিনি পর্তুগিজ অধিনায়ককে অভিনন্দন জানিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি সময়ের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রোনালদোর এই প্রত্যাবর্তন পর্তুগালের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং গোল করার সামর্থ্য দলকে শিরোপার লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন