অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের লক্ষণ না থাকা, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়ায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১১০ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১৩ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছায়।

এর আগের কার্যদিবসে ব্রেন্টের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর কূটনৈতিক মধ্যস্থতার খবর সামনে এলে কিছুটা কমে আসে। তবে বুধবার ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে সংশয় প্রকাশের পর বাজারে আবারও উদ্বেগ বাড়ে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় অনিশ্চয়তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নিজেদের রক্ষায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর অবরোধ আরোপ ও হামলার হুমকি দিয়ে অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সংলাপের প্রত্যাশা করতে পারে না।

ইরানের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের মধ্যে তেহরানে বৈঠকে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওই আলোচনার খবরের পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও বুধবার তা আবার বাড়ে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ না থাকায় বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির বাইরেও জাহাজে হামলার উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালির বাইরেও ট্যাংকারে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ওমান উপসাগর পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনার বিস্তার ঘটলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল জাহাজে তোলা এবং এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারে।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার দাবি

এদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সোমবার সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা, শায়বাহ তেলক্ষেত্র এবং রিয়াদ ও আভা বিমানবন্দর।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার খবর বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দেশটির তেল উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি এবং উৎপাদনে প্রভাবের মাত্রা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমেছে

তেলের দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির মজুত কমে যাওয়ার তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের দুই কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানান, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিশোধনাগারগুলোর সঙ্গে কাজ করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ১৬ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ৪৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে পেট্রল ও অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানির মজুতও কমেছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক মজুতসংক্রান্ত প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশের কথা ছিল। মজুত কমে যাওয়ার তথ্য বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার সঙ্গে এই পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ আরও জোরালো হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়তে পারে চাপ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।

বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অচলাবস্থা, মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতেও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

সূত্র: রয়টার্স, ডন নিউজ

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধবিরতি ভাঙলে ‘নতুন চমক’ দেখানোর হুঁশিয়ারি ইরানের

1

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

2

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বন কেটে ভাগাড় নির্মাণ

3

লক্ষ্মীপুরে এক মাসে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলী অপসারণ, নেপথ্যে দুর্

4

২০ মাসে ধর্ষণ ও নির্যাতনে নিহত ৬৪৩ শিশু

5

ফ্রিজ ভালো রাখার উপায়

6

পৃথিবীটা এখনো মেসির, বিশ্বকাপও তার জাদুতে মুগ্ধ

7

অধিনায়ক বাভুমার মহাকাব্যিক ইনিংস, ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪২

8

গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭২৭৪০

9

পিয়া জান্নাতুলকে প্রাণনাশের হুমকি: জিডি, তদন্তের নির্দেশ আদা

10

মোবাইল থেকেই কোডেক্স নিয়ন্ত্রণের সুযোগ

11

তারেক রহমানকে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

12

তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট চরমে

13

যে কারণে হরমুজের একক নিয়ন্ত্রণ চায় ইরান

14

‘ব্যাগ গোছাও স্পেন যেতে হবে, আমরা আর্জেন্টিনাতেই আছি’

15

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, বহু হতাহতের আশঙ্কা

16

স্পিকারের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

17

ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প

18

রামিসা হত্যার রায় আজ, আদালতে আসামিরা

19

মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চায় ইরান

20