অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত ?

ছবি: সংগৃহীত



বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। হিন্দুস্তান টাইমসে কার্ডিওলজিস্ট ডা. অমিত কুমার জানান, অনেকে ভাবেন ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েই ভালো থাকা যায়। কিন্তু ‘জেগে থাকা’ আর ‘শরীরের সুস্থতা’ এক নয়। আমরা হয়তো তন্দ্রাহীন থাকতে পারি, কিন্তু আমাদের হৃদযন্ত্র নিঃশব্দে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।  

কেন ঘুম হৃদযন্ত্রের জন্য অপরিহার্য: ডা.কুমারের জানান, ঘুমের সময় শরীর যেন একপ্রকার ‘রিপেয়ারিং মেশিনে’ পরিণত হয়। তখন রক্তচাপ কমে, হৃদস্পন্দন ধীর হয়, স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নেমে আসে। এ সময় শরীরের নানা টিস্যু মেরামত হয়, প্রদাহ কমে এবং রক্তনালীগুলো পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে।  

কিন্তু সময়ের অভাবে অনেক সময় আমরা ঠিকমতো ঘুমাই না। কখনও দেখা যায় ৭ ঘণ্টাও ঘুম হয় না।  যখন নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুম হয়, তখন এই সূক্ষ্ম মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এবং হার্টে বাড়তি চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এমন হতে থাকলে শরীরে নানান জটিলতা দেখা দেয়। যেমন উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা রক্তনালীতে ক্ষতি হতে পারে।  

ঘুমের ঘাটতির ৪টি বড় বিপদ: ডা. অমিত কুমার ঘুমের অভাব থেকে হৃদযন্ত্রের জন্য যে চারটি প্রধান ঝুঁকির কথা বলেছেন। এগুলো হলো:  

উচ্চ রক্তচাপ: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর সবসময় কাজ করে। রাতের বেলা যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি তখন হার্ট বিশ্রাম পায়। তবে পর্যাপ্ত না ঘুমানোর কারণে হার্ট বিশ্রাম পায় না এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়।

প্রদাহ বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত ঘুম না পেলে রক্তনালীতে প্রদাহ তৈরি হয়। এটি হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি।
হরমোনের অসামঞ্জস্য: ঘুমের ঘাটতি স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে ওজন বেড়ে যায়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে।

অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন: কম ঘুম হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতে বিঘ্ন ঘটায়, যা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মিত স্পন্দনের ঝুঁকি বাড়ায়।

কত ঘণ্টা ঘুমাতে হবে: চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত ঘুমের কথা বলেন। তবে অনেকেই জানেন না আসলে পর্যাপ্ত ঘুম কত সময়ের হয়। চিকিৎসকরা এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম দরকার হয়। তবে ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটা ভুলে গেলে হবে না। ডা. কুমার পরামর্শ দেন প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের আগে স্ক্রিন টাইম কমানো এবং ঘর অন্ধকার ও নিরিবিলি রাখা গুরুত্বপূর্ণ কারণ এসবের কারণে ভালো ঘুম হয়। 

তিনি আরও জানান, আমাদের হৃদযন্ত্র প্রতিদিন গড়ে এক লাখ বারেরও বেশি স্পন্দিত হয়। এই অবিরাম পরিশ্রমের পর রাতের ঘুমই তাকে পুনরুজ্জীবিত করে। তাই হয়তো আপনি ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালের ক্লান্তি অনুভব করছেন না, কিন্তু নীরবে আপনার হার্টের ক্ষতি হচ্ছে। তাই হার্ট ভালো রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।  

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একদিনে বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন বিশ্বরেকর্ড

1

বিদায়ের মঞ্চে মেসি-রোনালদো-নেইমার, শেষ বিশ্বকাপের আবেগ

2

‘ফুটবল বেচাকেনার বস্তু নয়’, ফিফার পরিকল্পনায় বিশ্বকাপ বয়কটের

3

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ধাপভিত্তিক পরিকল্পনা

4

ম্যারাডোনার বিষাদের শহর ডালাসে মেসিদের সামনে অস্ট্রিয়া

5

ফের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন-আর্জেন্টিনা, কবে কখন শুরু, জেন

6

হবিগঞ্জে ছাত্রনেতা মাহদীর ওপর হামলা, হাসপাতালে ভর্তি

7

পাকিস্তানে নিরাপত্তা অভিযানে ২২ নিহত

8

বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে ক্রিকেট বিশ্বের নতুন উন্মাদনা

9

চীনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের তথ্যচিত্র ‘

10

হজযাত্রীদের সেবায় নিবেদিত সৌদি যমজ বোন

11

বেলিংহামের অটোগ্রাফ না নিলে ঘরে ঢুকতে দিতেন না মেয়ে: শাস্ত্র

12

অবসরের সিদ্ধান্ত নেইমারের, বিশেষ অনুরোধ তার বাবার

13

ফের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ

14

আজ বিশ্ব মা দিবস

15

মেয়র নির্বাচনের ঘোষণা নীলা ইসরাফিলের

16

পেলে-মেসিকেও ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল

17

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২ গোলে এগিয়ে মেক্সিকো

18

ঘুমানোর আগে ফোন দেখার অভ্যাস ছাড়বেন যেভাবে

19

বর্ষার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ভাই-বোনসহ ৩ শিশুর

20