অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দান-সদকা কোথায় করবেন, কোথায় করবেন না

দান-সদকা কোথায় করবেন, কোথায় করবেন না

ইসলামে দান-সদকা শুধু পুণ্য অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের বৈষম্য কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তবে দান করার ক্ষেত্রে প্রকৃত অভাবীকে খুঁজে বের করা এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

কোরআন ও হাদিসে দানের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্যায় ও পাপের কাজে সহযোগিতা না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

কোথায় দান করবেন

১. অভাবী আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দিন

দান করার ক্ষেত্রে অভাবী নিকটাত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া উত্তম। এতে একদিকে দানের সওয়াব পাওয়া যায়, অন্যদিকে আত্মীয়তার বন্ধনও দৃঢ় হয়।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষ কী ব্যয় করবে—এ প্রশ্নের উত্তরে পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৫)

হাদিসে আত্মীয়কে দানের বিশেষ ফজিলতও বর্ণিত হয়েছে। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

২. আত্মমর্যাদাশীল অভাবী মানুষকে সাহায্য করুন

সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা অভাবের মধ্যে থাকলেও আত্মসম্মানের কারণে কারও কাছে সাহায্য চান না। তাঁদের প্রয়োজন বুঝে সহায়তা করা দাতার দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

এতিম, বিধবা, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী এবং কর্মক্ষমতা হারানো অসহায় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনা করেও সাহায্য করা যেতে পারে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, বিধবা ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রচেষ্টাকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে সংগ্রামকারীর মতো অথবা নিয়মিত রোজা রাখা ও রাতে ইবাদতকারীর মতো সওয়াব লাভ করেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৩৫৩)

৩. স্থায়ী জনকল্যাণমূলক কাজে দান করুন

যেসব কাজে দীর্ঘদিন মানুষের উপকার হয়, সেসব খাতে দান করা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। যেমন—

  • সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা

  • দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করা

  • এতিম ও অসহায় শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা

  • দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া

  • নিরাপদ ও কার্যকর জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা

এ ধরনের কল্যাণমূলক কাজের সুফল দীর্ঘদিন মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। ইসলামে স্থায়ী উপকার বয়ে আনে এমন দানের সঙ্গে সদকায়ে জারিয়ার ধারণা সম্পর্কিত।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দান করার আগে তার কার্যক্রম, স্বচ্ছতা এবং অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

কোথায় দান করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন

১. প্রতারণামূলক ভিক্ষাবৃত্তিতে অর্থ দেওয়া থেকে সতর্ক থাকুন

কিছু মানুষ মিথ্যা পরিচয়, সাজানো দুর্দশা বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এ ধরনের প্রতারণাকে উৎসাহিত না করাই ভালো।

সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে হাত পাতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৪১)

তবে কেউ সাহায্য চাইলে শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে তাঁকে প্রতারক মনে করা উচিত নয়। প্রকৃত অভাবী মানুষকে ভুলভাবে বঞ্চিত না করে সম্ভব হলে তাঁর প্রয়োজন যাচাই করে সাহায্য করুন। কর্মক্ষম হলেও কেউ দারিদ্র্য, অসুস্থতা বা অন্য কোনো সংকটে থাকতে পারেন।

২. পাপ ও অন্যায় কাজে সহযোগিতা করবেন না

যে অর্থ সরাসরি অপরাধ, মাদক গ্রহণ বা অন্যায় কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে চাওয়া হচ্ছে, সে কাজে অর্থ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা সৎকর্ম ও খোদাভীতির কাজে একে অপরকে সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরের সাহায্য কোরো না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২)

তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো ভুল কাজে জড়িত—এমন ধারণা থেকে তাঁর সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। বরং সম্ভব হলে খাবার, চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করুন, যাতে সাহায্যটি তাঁর মৌলিক প্রয়োজন পূরণে কাজে লাগে।

৩. যাচাই না করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের অর্থ দেবেন না

দান সংগ্রহের নামে কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানুষের আবেগকে কাজে লাগাতে পারে। তাই বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, কাজের রেকর্ড এবং অর্থ ব্যয়ের পদ্ধতি যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ করে এতিমখানা, চিকিৎসা সহায়তা তহবিল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণের জন্য অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন।

দান করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

  • প্রকৃত অভাবী মানুষকে অগ্রাধিকার দিন।

  • দানের ক্ষেত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক ও মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনা করুন।

  • দানের অর্থ হালাল উপার্জন থেকে দিন।

  • কাউকে অপমান করে বা প্রচার করে দান করবেন না।

  • অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা সম্ভব হলে যাচাই করুন।

  • যাকাত ও সাধারণ সদকার বিধান এক নয়—যাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত শরয়ি নিয়ম মেনে চলুন।

উপসংহার

ইসলামে দান-সদকার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানুষের কল্যাণ সাধন। তাই শুধু দানের পরিমাণ নয়, বরং দানের নিয়ত, প্রাপকের প্রয়োজন এবং অর্থের সঠিক ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ।

আবেগের বশে নয়, বিবেচনা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দান করুন। এতে প্রকৃত অভাবী মানুষের উপকার হবে এবং সমাজে সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ আরও শক্তিশালী হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিয়েতে নতুন জামাইকে কেন আস্ত খাসি দেওয়া হয়?

1

এবার এমবাপ্পেকে সিনেটরের হুমকি, ‘তোমার কোনো ধারণাই নেই আমি ক

2

টানা পাঁচ ম্যাচ উইকেটশূন্য বুমরাহ

3

ইতিহাস ডাকছে মার্তিনেজকে

4

লাখ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

5

বলসোনারোর সাজা কমানোর আইন স্থগিত করল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট

6

ট্রাইবেকারের প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে ব্রাজিল

7

পাসপোর্ট হারালে মানতে হবে নতুন নিয়ম, পরিপত্র জারি

8

শিশু-কিশোরের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দিন

9

‘আমরা বাংলাদেশ নই, নেপালও নই’—কেন এমন বললেন প্রকাশ রাজ

10

‘আমার কাছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেখানেই শেষ'—আলোচনায় ডি মার

11

এসএসসিতে ফেল ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

12

কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেক আর নেই

13

আমার মেয়ে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন

14

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিল ইরান

15

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

16

অর্ডার করেছিলেন আইফোন, পার্সেলে মিলল তেল

17

একই শিম, দুই দাম

18

ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় নরওয়ে যাচ্ছেন জেলেনস্কি

19

বজ্রবৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

20