মহাকাশ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেলিযোগাযোগ খাতে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিরক্ষা খাতেও আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বিদেশি যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য মহাকাশভিত্তিক উন্নত স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪১৬ কোটি ডলারের একটি বড় চুক্তি দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী।
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে। কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য হলো মহাকাশে এমন একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা বিশ্বের যেকোনো অঞ্চল থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য সামরিক হুমকি দ্রুত শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হবে।
মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে অত্যাধুনিক মহাকাশভিত্তিক সেন্সর, নিরাপদ ও উচ্চগতির যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী স্থলভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ অবকাঠামো ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে মহাকাশ থেকে সার্বক্ষণিক বৈশ্বিক নজরদারি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় স্পেসএক্সকে ২০২৮ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট নক্ষত্রমালা (Satellite Constellation) মহাকাশে স্থাপন করতে হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির অধীনে আরও কয়েকটি বড় চুক্তি সম্পাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্প আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা উদ্যোগে পরিণত হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দুই দশকে এই কর্মসূচির জন্য মোট ব্যয় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, এই প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য স্পেসএক্স প্রায় ২০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ঘোষিত চুক্তি সেই প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এদিকে ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পের বাইরে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী স্পেসএক্সকে আরও ২২৯ কোটি ডলারের একটি পৃথক প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করেছে। ওই প্রকল্পের লক্ষ্য মহাকাশভিত্তিক উন্নত ও উচ্চগতির যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা সামরিক ও কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
সামরিক খাতে স্পেসএক্সের অংশগ্রহণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির ‘স্টারশিল্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে সামরিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ৭ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও অনুমোদন করেছিল মার্কিন মহাকাশ বাহিনী। নতুন এই চুক্তিগুলো স্পেসএক্সকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন