ইরান ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক দূতাবাস। সতর্কবার্তায় নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান ও দেশটির সমর্থনপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশকে সতর্কবার্তার আওতায় রাখা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ইয়েমেন ও ইরান রয়েছে।
সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের আশপাশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাসগুলো। সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, আকাশসীমা বন্ধ এবং ভ্রমণসূচিতে আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে সতর্কবার্তায় ঠিক কোন রুটে বা কখন বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
সতর্কবার্তায় ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, চলমান সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সংঘাতের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোর বাইরেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
ইরান ও দেশটির সমর্থনপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তু নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসগুলোর সতর্কবার্তায় সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এতে নির্দিষ্ট কোনো হামলার সময়, স্থান বা লক্ষ্যবস্তুর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে বিমান চলাচল ও ভ্রমণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দূতাবাসের হালনাগাদ নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন