ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি। তাঁর আগে এ দায়িত্বে ছিলেন আজিজ নাসিরজাদেহ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নাসিরজাদেহ নিহত হওয়ার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট কেতাবচির নিয়োগ অনুমোদন করে। ৬৮ বছর বয়সী এই কর্মকর্তার নিয়োগের পক্ষে ভোট দেন ২৩৭ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে ভোট দেন ১৫ জন।
এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান হয়েছে। নাসিরজাদেহের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাজিদ ইবন আল-রেজা।
নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কেতাবচি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে তাঁর এই পেশাগত সম্পৃক্ততা নতুন দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে অ্যারোস্পেস শিল্পের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, মহাকাশ কর্মসূচি এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন জড়িত। ফলে এই খাতে অভিজ্ঞতা থাকা কেতাবচির জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কেতাবচির দায়িত্বের মধ্যে থাকবে প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালনা, সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারক করা।
দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
তবে নতুন দায়িত্বে তিনি কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেবেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনবেন কিংবা সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন কোনো কৌশল নেবেন কি না—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে কেতাবচির দায়িত্ব গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো খাতে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের বিষয় হতে পারে।
তবে শুধু নতুন মন্ত্রী নিয়োগের ভিত্তিতে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাঁর অগ্রাধিকার, মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে এ নিয়োগের সম্ভাব্য প্রভাব স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন