ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চীনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সন্তুষ্ট ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং |সংগৃহীত

 ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দীর্ঘ হওয়া এই বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের এক শব্দে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “চমৎকার।”

দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফরে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার রাতে বেইজিং পৌঁছালে তাকে জাঁকজমকপূর্ণ লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথম মেয়াদে চীন সফর করেছিলেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এবারের সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নতুন শুল্ককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নতুন বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পৌঁছান ট্রাম্প। সেখানে সামরিক গার্ড অব অনার ও শিশুদের পতাকা নেড়ে অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে দুই নেতা প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শুরুর আগে শি জিনপিং বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরো বিশ্ব এই বৈঠকের দিকে নজর রাখছে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তাইওয়ান ইস্যু। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্ন দুই দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি কমানোর আহ্বান জানান।

চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটিকে ঘিরে বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন। তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন টেসলার ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের টিম কুক।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও শি একসঙ্গে ঐতিহাসিক টেম্পল অব হেভেন পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকরা আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “চমৎকার।” পরে তাইওয়ান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প শি জিনপিংকে “মহান নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আপনার বন্ধু হওয়াও সম্মানের।”

এদিকে শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, “বাণিজ্য যুদ্ধে কোনো পক্ষই বিজয়ী হয় না।” তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

1

গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

2

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নতুন প্রস্তাব দিল ইরান

3

বজ্রবৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

4

প্রতিবন্ধীদের বাস-ট্রেন-লঞ্চে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের উদ্যোগ

5

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

6

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

7

ঈদের দিন বর্জ্য অপসারণের সময় নির্ধারণ ঢাকা উত্তরের

8

‘‌জাতীয় সংসদই হোক সবপ্রকার সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু’

9

ঢাকার ১১ ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক

10

ইরানে আবার হামলা হলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে : আইআরজিসি

11

লুকা জিদানসহ বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা আলজেরিয়ার

12

নাম সরাতে কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল: সাক্ষাৎকারে সাকিব

13

পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সুজিত বসু

14

হটস্পট ৩০ উপজেলায় হাম সংক্রমণ কমছে

15

স্বামী ছাত্রদলে পদ পাওয়ায় খুশিতে ফেসবুকে স্ত্রীর পোস্ট

16

ইরানের সঙ্গে আমিরাতের শক্তির কোনো তুলনা হয় না

17

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ট্রাম্প

18

পারভেজ হত্যা মামলা: মুন্না ও কামরুলের ২ দিনের রিমান্ড

19

৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে মেটা

20