ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জাতিসঙ্ঘে নতুন নেতৃত্বের বার্তা দিলেন মারিয়া এসপিনোসা

ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা |সংগৃহীত

জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা। তিনি মনে করেন, জাতিসঙ্ঘের ইতিহাসে এবার একজন নারীকে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত করা সময়ের দাবি এবং এটি হবে ‘ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার।’

বর্তমানে জাতিসঙ্ঘের সর্বোচ্চ এই পদে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে তিনজনই নারী। প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এসপিনোসাকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসপিনোসা বলেন, জাতিসঙ্ঘের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তার মতে, বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “অনেকেই মনে করেন, এখন সময় এসেছে জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বে একজন নারী আসার। আমি এটিকে শুধু প্রতীকী পরিবর্তন নয়, বরং ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখি।”

এসপিনোসা আরও উল্লেখ করেন, নেতৃত্বের প্রশ্নে শুধু লিঙ্গ নয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, “বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্বের সম্ভাবনা থেকে বাইরে রাখা যায় না।”

বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জাতিসঙ্ঘের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। একইসঙ্গে আর্থিক সংকট ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও রয়েছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় এসপিনোসা জাতিসঙ্ঘে আরও বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে জাতিসঙ্ঘকে আরও আধুনিক ও কার্যকর হতে হবে। বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সংস্কার উদ্যোগের চেয়েও আরও উচ্চাভিলাষী পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একটি বৈশ্বিক ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা সম্ভাব্য সংঘাত ও সংকট আগেভাগে শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার সমর্থনে জমা দেওয়া তার ভিশন নথিতে এ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা জাতিসঙ্ঘ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসঙ্ঘে ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ পদে দায়িত্ব পালনকারী মাত্র পাঁচজন নারীর একজন তিনি।

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে চাননি এসপিনোসা। তিনি বলেছেন, জাতিসঙ্ঘের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শক্তিশালী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসঙ্ঘের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং বৈশ্বিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ভর্তি পরীক্ষা ২৫ এপ্রিল

1

মার্কিন আটক থেকে মুক্ত ইরানি নাবিকরা এখন পাকিস্তানে

2

শিক্ষার্থীরা রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত

3

শিশু রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

4

তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা

5

ভাতা বন্ধে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ইমাম পুরোহিতরা

6

নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপের আগে শক্তির বার্তা আলজেরিয

7

শিক্ষানুরাগী সৈয়দা রাহেলা বেগমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

8

ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

9

আওয়ামীলীগ ব্যাক করেছে দেখো নাই : মাহফুজ আলম

10

পাকিস্তানের ফার্স্ট লেডি বিবি আসিফা কি নির্দেশ করলেন

11

সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল

12

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

13

দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

14

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

15

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

16

তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট চরমে

17

কমছেই না শিশু নির্যাতন

18

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার অবনতি: ৯ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

19

ব্রণ নিয়ে বিড়ম্বনা জেনে নিন কারণ ও সমাধান

20